ক্লাস শুরুর আগের রাতে কলেজে বিয়ের অনুষ্ঠান

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

করোনা মহামারির কারণে প্রায় দীর্ঘ দেড় বছর বন্ধ থাকার পরে আগামীকাল থেকে স্কুল-কলেজের ক্লাস শুরু হতে যাচ্ছে। ঠিক আগের রাতে সরকারি বিজ্ঞান কলেজ মিলনায়তনে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করার অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সূত্র জানিয়েছে, কলেজের এক কর্মকর্তার ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় সন্ধ্যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আইয়ুব ভূঁইয়া বলেন, গত মাসে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এখন মানবিক কারণে মানা করা যায়নি। অনেকদিন আগেই বিয়ে ঠিক হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, আগামীকাল ক্লাস শুরুর প্রস্তুতি নিতে কোনো সমস্যা হবে না। মিলনায়তনে অনুষ্ঠান হচ্ছে। সশরীরে ক্লাস নেওয়ার জন্য আমাদের ১৬টি ক্লাসরুম রয়েছে।

করোনা সংক্রমণ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসায় গত ৫ সেপ্টেম্বর সরকার পর্যায়ক্রমে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস চালু ঘোষণা দেয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, স্কুল ও কলেজ খোলার পর উচ্চ মাধ্যমিক ২০২১ ও ২০২২ সালের মাধ্যমিক এবং এ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার (পিইসিই) শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে। প্রথম থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা সপ্তাহে এক দিন করে সশরীরে ক্লাস করবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের কাছে স্বাস্থ্য নির্দেশনার সাধারণ পরিচালন পদ্ধতি (এসওপি) পাঠিয়েছে। স্কুলে ক্লাস শুরু হওয়ার পর নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

এই নির্দেশনায় প্রধান শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মীদের সারাক্ষণ মাস্ক পরে থাকা এবং শ্রেণীকক্ষে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া, কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা অথবা কর্মীর করোনাভাইরাসের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এ ছাড়া, শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে বা আইসোলেশনে থাকতে পারবে এবং তাদেরকে অনুপস্থিত হিসেবে গণ্য করা হবে না।

নির্দেশনায় শিক্ষকদের অনুরোধ করা হয়েছে, প্রতিটি ক্লাসের শুরুতে একটি অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য। কোনো ছাত্র যেন ক্লাসের মাঝখানে বের হয়ে না যায়, সেটা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে নির্দেশনায়।

এসওপি অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের বলা হয়েছে— তারা যেন যে কোনো ধরনের অসুস্থতার কথা শিগগির অভিভাবক ও শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জানায়। কোনো জরুরি কারণ ছাড়া শ্রেণীকক্ষের বাইরে না যাওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

এসওপি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, পরিবারের কোনো সদস্য করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যেন তারা শিগগির এই তথ্যটি প্রধান শিক্ষককে জানান। একইসঙ্গে, শিশুদের বাইরের খাবার খেতে নিরুৎসাহিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়েছে এসওপিতে।

৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় স্কুল খোলার সরকারি পরিকল্পনা ঘোষণা করার সময় শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানান, সরকার স্কুল খোলার পর সার্বিক করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হচ্ছে কিনা সেটার ওপর ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকে নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য গত বছরের ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ফলশ্রুতিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বাতিল হয়ে যায় এবং প্রায় দেড় লাখ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

এ বছরের মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আঘাতে সংক্রমণের হার বাড়তে থাকে এবং ২৪ জুলাই আগের সব রেকর্ড ভেঙে সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ ৩৩ শতাংশে পৌঁছায়।