জাবির নির্মাণাধীন হল থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একটি নির্মাণাধীন হল থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের ভেতরে মরদেহটি পাওয়া যায়। পরে আশুলিয়া থানার পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
নিহত অলিউল্লাহ ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার বরবাজার এলাকার তাইজুদ্দিন তাজুর ছেলে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবারের সঙ্গে থাকতেন।
পুলিশ ও ওই হলের নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের দাবি, অলিউল্লাহ নির্মাণকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না।
অলিউল্লার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মা ও বড়ভাই রাসেল দ্য ডেইলি স্টারকে তার মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
অলিউল্লাহর বড় ভাই রাসেল বলেন, ‘অলিউল্লাহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করতেন। কখনো হোটেলে আবার কখনো বিভিন্ন সাইটে (নির্মাণশ্রমিক) হিসেবে কাজ করতেন। তার বিরুদ্ধে কখনো চুরির অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
সেদিন রাতে অলিউল্লাহ বাসাতেই ঘুমিয়েছিলেন উল্লেখ করে রাসেল জানান, অলিউল্লাহর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। সেটি উদ্ধার হলেই বোঝা যাবে, কারা তাকে ফোন করে রাতে ডেকে নিয়ে যায়।
ওই হলের নির্মাণকাজের দায়িত্বে থাকা নূরানী কনস্ট্রাকশন কোম্পানির ম্যানেজার খোরশেদ আলম খোকন বলেন, ‘সকালে হলের ভেতরে একজনকে মৃত পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে জানানো হয়। পরে আমরা সিসিটিভির ফুটেজ পরীক্ষা করি। এতে হলের পেছনের দিকের প্রাচীর বেয়ে একাধিক ব্যক্তিকে হলে ঢুকতে দেখা যায়। তারা চুরি করার উদ্দেশ্যে হলে এসেছিল বলে মনে হচ্ছে।’
হলের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা গেছে, রাত ৩টা ৮মিনিটে অলিউল্লাহসহ তিন যুবক সীমানা প্রাচীর পার হয়ে নির্মাণাধীন হলের ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে ৩টা ২৪মিনিটে অলিউল্লাহকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পর আরেক জনকে হেঁটে মওলানা ভাসানী হলের দিকে যেতে দেখা যায়। তবে তারা কোন দিক দিয়ে উপরে উঠেছিলেন, ফুটেজ সেটা দেখা যায়নি।
আশুলিয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) কাজী নাসের বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে। নিহত অলিউল্লাহ ওই হলের নির্মাণকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কেউ না। ভবন থেকে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আমরা সমস্ত ফুটেজ নিয়ে এসেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।‘
এর আগে গত ২৭ মে একই ভবনের ছয় তলা থেকে নিচে পড়ে শাহের আলী নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়। পরে ছাত্রদের দাবির মুখে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য হন নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান নূরানী কনস্ট্রাকশন।
তবে, ওই হলে আরও একজনের মৃত্যুর ঘটনাকে প্রকল্প পরিচালক, কনস্ট্রাকশন কোম্পানি ও তদারকি কমিটির দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফল বলে দাবি করেছে ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদ।
বৃহস্পতিবার সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ইমতিয়াজ অর্ণবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তুষার ধর ও সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল রনি বলেন, ‘সংশ্লিষ্টদের সময়োপযোগী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানির পুনরাবৃত্তি এড়ানো যেত। কথিত চুরির ঘটনার পেছনে করোনাকালীন মর্মান্তিক দারিদ্র্যের নিষ্পেষণ নিশ্চিতভাবেই কাজ করেছে। করোনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের দোকানীসহ অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। কিন্তু কন্সট্রাকশন কোম্পানিগুলো তাদেরকে চলমান প্রকল্পে কাজ করার সুযোগ না দিয়ে সস্তা শ্রমের আশায় উত্তরবঙ্গসহ দূর-দূরান্তের জেলার শ্রমিক নিয়োগে বেশি আগ্রহী।’