ঢাবি ক্যাম্পাস খোলার আগে কাটা হচ্ছে গাছ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঢাবি

হাতে গোনা কয়েকটি কৃষ্ণচূড়া গাছ রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে। কলাভবন সংলগ্ন প্রক্টর অফিসের সামনে রয়েছে তার মধ্যে একটি। ক্যাম্পাস খোলার আগেই সেটি কেটে ফেলতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, গাছটির মূল ডালপালা সব কেটে ফেলা হয়েছে। নিচে পড়ে আছে বিভিন্ন অংশ। মূল কাণ্ডের অর্ধেকটা কাটা হয়েছে। এই অবস্থায় নিথর দেহে দাঁড়িয়ে আছে গাছটি। সেটির নিচে প্রক্টর অফিসের সামনে রাস্তা সংস্কারের কাজ চলছে। 

বন্ধ ক্যাম্পাসে গাছ কাটায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীসহ অনেকে।   

তবে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, গাছটির ৬০ শতাংশ পোকায় কেটে ফেলেছে। ঝুঁকিপূর্ণ মনে করে তারা গাছটি কেটে ফেলছে। নতুন করে আবারও গাছ লাগানোর হবে বলেও আশ্বস্ত করেছে প্রশাসন।

log.gif
ছবি: সংগৃহীত

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু মো. দেলোয়ার হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'কৃষ্ণচূড়া গাছটির ৬০ শতাংশ পোকায় কেটে ফেলেছে। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরি ক্যালচার ডিপার্টমেন্টে গাছটি কাটতে আবেদন করলে তারা গাছটি কেটে ফেলে।'

তিনি আরও বলেন, 'কৃষ্ণচূড়া গাছ ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে, এটা ঠিক। বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কেউ নেই যে, এ ধরনের গাছ কেটে সৌন্দর্য নষ্ট করবে। আমার বাবার পা যদি রোগে আক্রান্ত হয়, তাহলে তা কী অপারেশন করে কাটা লাগবে না? এ বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজায়নে আমার অবদান আছে।' 

তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম গাছ কাটার প্রতিবাদ জানিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি আজ সকালে ক্যাম্পাসে গিয়েছিলাম। সেখাতে প্রায় আধা ঘণ্টা থেকে কেটে ফেলা গাছ ও ডাগুলো ভালো করে দেখেছি। গাছের কোনো অংশে পোকায় খাওয়ার চিহ্ন চোখে পড়েনি।' 

তিনি আরও বলেন, 'আমি এই ভয়ঙ্কর কাজের বিচার চাই।'

এছাড়া ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আকরাম হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গাছে দেখে আমার কাছে পোকায় খাওয়া বা নষ্ট বলে মনে হয়নি।'

ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কাজ শুরু হয়েছে আরও অনেক আগ থেকেই। আগেও দেখেছি, লাইব্রেরির সামনের দুটো গাছ কেটে ফেলা হয়েছিল। এ প্রশাসন যে পরিবেশবান্ধব প্রশাসন না, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ প্রশাসনের বিচার হওয়া উচিত।'

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আরবরি ক্যালচার থেকে যেটা জানতে পেরেছি, গাছটি জীবনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি ছিল কৃষ্ণচূড়া গাছ। এ গাছের শিকড় নরম হয়। জনস্বার্থে গাছটি কাটা হয়েছে।'

গাছ কাটার দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবরি ক্যালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মিহির লাল সাহা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গাছটি দুর্বল হয়ে রাস্তার দিকে হেলে গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেটি কাটা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স একশ বছর পূর্ণ হয়েছে। এ উপলক্ষে আমাদের ১০০টি নতুন গাছ লাগানোরও পরিকল্পনা আছে।'

তবে, সাবেক শিক্ষার্থী মনিরুল ইসলাম বলেন, 'গাছটি অতবেশি হেলেও ছিল না। চাইলে আরও আট-দশ বছর রেখে দেওয়া যেত।'