পাবিপ্রবির রেজিস্ট্রার অফিসে তালা, প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) কর্মকর্তাদের আন্দোলনে প্রশাসনিক কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। ১৭ দফা দাবিতে রেজিস্ট্রার অফিস তালাবদ্ধ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা।

পাবিপ্রবি কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সদস্যরা গতকাল শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দপ্তরে গিয়ে রেজিস্ট্রার অফিস তালাবদ্ধ করে দেন। এসময় তারা রেজিস্ট্রার অফিসের সামনে অবস্থান নেন। রেজিস্ট্রার অফিস তালাবদ্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সোহাগ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'করোনাকালীন সময়ে অফিস সময় কর্তন, চাকরিতে আপ-গ্রেডেশন নিতিমালা সংশোধন, কর্মকর্তাদের আপ-গ্রেডেশন ত্বরান্বিত করাসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চাকরিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য পাবিপ্রবির কর্মকর্তারা গত ২৪ জানুয়ারি ১৭ দফা দাবি তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে স্মারকলিপি দেয়।'

'প্রায় ১ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়ে গেলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া এবং পেশাগত এসব দাবি-দাওয়া নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়য় প্রশাসনের অনাগ্রহ ফুটে ওঠায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্মকর্তারা এ আন্দোলন শুরু করেছেন', যোগ করেন তিনি।

সোহাগ জানান, গতকাল সকালে রেজিস্ট্রার অফিস তালা দিয়ে তার সামনেই অবস্থান নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তারা। দাবি না মানা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলমান থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রহ্ম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যেসব দাবি-দাওয়া চাওয়া হয়েছে, সেগুলো যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কাজ করছে কমিটি।'

'এ ছাড়া, কিছু দাবির এখন কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ সংক্রান্ত একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে, কমিটির কাজ শেষ হওয়ার আগে আমার অফিসে তালা দেওয়া উদ্দেশ্যমূলক', বলেন তিনি।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, কর্মকর্তা এসোসিয়েশনের সভাপতি হারুনুর রশিদ ডন একটি হত্যা মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় ইতোপূর্বে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। জামিন পাওয়ার পরও তাকে পুনর্বহাল না করায় এ আন্দোলন শুরু হয়েছে।

এ বিষয়ে পাবিপ্রবি উপাচার্য ড. এম রুস্তম আলী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সাসপেনশন অর্ডার তুলে নেওয়ার জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে এ ধরনের আন্দোলন শুরু করা হয়েছে।'

চলমান আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদের শেষ সময়ের রিজেন্ট বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে, বর্তমান উপাচার্যের মেয়াদের শেষ সময়ে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ৬৯ এজেন্ডা নিয়ে রিজেন্ট বোর্ডের সভা আহ্বান করা হলেও আন্দোলনের মুখে তা পণ্ড হয়ে যায়। উপাচার্যের ভাতিজির চাকরি দেওয়া নিয়ে সৃষ্টি উত্তেজনায় সভা পণ্ড হলেও নতুন করে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

এ বিষয়ে উপাচার্য বলেন, 'নতুন করে রিজেন্ট বোর্ড সভার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।'

উল্লেখ্য, আগামী ৬ মার্চ উপাচার্য অধ্যাপক ড. রুস্তম আলীর মেয়াদকাল পূর্ণ হবে। ফলে এসব বিষয় নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।