বেরোবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীর ওপর হামলা: জড়িত সন্দেহে আটক ১

নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনাজপুর

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদালয়ের (বেরোবি) শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত সন্দেহে রিফাত হোসেন আলফি নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। আজ শুক্রবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (উপপরিদর্শক) ইজার আলী দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই হামলায় জড়িত সন্দেহে আজ বিকেলে শহরের উত্তর আশরতপুর এলাকা থেকে আলফি নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে আহত বিশ্ববিদ্যালয়ের জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে। ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনু রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর সৈয়দ আনোয়ারুল আজিম চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বলেন, পরাগের হাতে অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। সেটা রংপুরে সম্ভব না। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহযোগিতায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে কুপিয়ে আহত করে মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর আনোয়ারুল আজিম বাদী হয়ে তাজহাট থানায় মামলা দায়ের করেছেন। নথিতে অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আখতারুজ্জামান প্রধান বলেন, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আমরা সজাগ রয়েছি।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত আড়াইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দশম ব্যাচের শিক্ষার্থী পরাগ মাহমুদ। ভোরে লালবাগ এলাকায় ইতিহাস ও প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক মনিরুজ্জামান মজনুকে কুপিয়ে আহত করা হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ও টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা।

এর প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেটের সামনে রংপুর-কুড়িগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিক্ষোভ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।