রাবির হলে ‘আত্মহত্যা প্রচেষ্টা করলেই সিট বাতিল’ সংক্রান্ত নোটিশ প্রত্যাহার

নিজস্ব সংবাদদাতা, রাবি

কোনো ছাত্রী আত্মহত্যার চেষ্টা করলে হলের সিট বাতিল বিষয়ক বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে দুঃখ প্রকাশ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল কর্তৃপক্ষ।

গতকাল রোববার হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শর্মিষ্ঠা রায় স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে বলা হয়েছে, আত্মহত্যার প্রচেষ্টা জনিত কারণে যে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল তাতে অনেক শিক্ষার্থীই মানসিকভাবে আহত হয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে কাউকে আঘাত করার জন্য বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশিত হয়নি। শিক্ষার্থীদের সচেতন করার জন্য এটি করা হয়েছিল।

notice.jpg
‘আত্মহত্যা প্রচেষ্টা করলেই সিট বাতিল’ সংক্রান্ত নোটিশ (বামে) এবং সেটি বাতিলের নোটিশ (ডানে)। ছবি: সংগৃহীত

এতে আরও বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থী মনোকষ্ট পেলে বা মানসিকভাবে আহত হয়ে থাকলে আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। তবে যেকোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য শিক্ষার্থীদের কাছে পাওয়া গেলে হল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এর আগে গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হলে অবস্থানরত ছাত্রীরা কোনো রকম ঘুমের ওষুধ, নেশাজাতীয় দ্রব্য কিংবা আত্মহননের প্রচেষ্টা করলে কোনো কৈফিয়ত ছাড়াই তার আবাসিকতা বাতিল করা হবে।

বিজ্ঞপ্তিটি গত শনিবার শিক্ষার্থীদের নজরে আসে। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা।

ইসরাত জাহান নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, যে নিজের জীবনের মায়া ছেড়ে দিয়ে আত্মহত্যা চেষ্টা করতে পারে তাকে হলের সিট বাতিলের ভয় দেখিয়ে আদতে কোনো লাভ আছে?

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, হলের অফিসে বসে এমন সিদ্ধান্ত না নিয়ে বরং শিক্ষার্থীদের রুমে গিয়ে সরেজমিনে তাদের সমস্যাগুলোর দেখভাল করলেই বোধ হয় কেউ আর আত্মহত্যা করতে চাইবে না, বরং আত্মবিকাশে মনোযোগী হতে চাইবে।

আরেক শিক্ষার্থী লিখেছেন, যে আত্মহত্যা করবে তাকে সিট বাতিলের ভয় দেখিয়ে লাভ কী? আদতে এগুলো কোনো সমাধান না। মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা উচিত। পর্যাপ্ত পরিমাণে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ইতিবাচক উপায়ে সচেতনতা বাড়ানো ইত্যাদি অনেক কিছু নিয়ে কাজ করতে পারে প্রশাসন।

এ বিষয় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শর্মিষ্ঠা রায় গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ইদানিং দেশব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহননের প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। ছাত্রীদের সচেতন করার জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে, কেউ ঘুমের ওষুধ রাখতে চাইলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন সঙ্গে রাখতে হবে।

তবে বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহারের পর অধ্যাপক শর্মিষ্ঠা রায় দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিজ্ঞপ্তিটি প্রচার করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আমরা বুঝতে পেরেছি হয়তো বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ভাষাগত কারণে শিক্ষার্থীরা এতে মানসিকভাবে আহত হয়েছেন। কাজেই আমরা বিজ্ঞপ্তিটি প্রত্যাহার করে নিয়েছি। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যায় এমন কোনো সিদ্ধান্ত আমরা গ্রহণ করবো না।'

'বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের কল্যাণের জন্য কর্তৃপক্ষ সবসময় কাজ করবে,' বলেও যোগ তিনি।