শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপবাদ, মমেক শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ বহিষ্কার ১০

নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অপবাদ দিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচিতে আপত্তিকর মন্তব্য করায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হাসানসহ ১০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করেছে কলেজ একাডেমিক কাউন্সিল।

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি কলেজ ক্যাম্পাসে একদল শিক্ষার্থী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। তাদের অভিযোগ ছিল কলেজের সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ ফাইনাল পরীক্ষায় পাস করানোর শর্তে এক শিক্ষার্থীকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এ ঘটনায় ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন তারা।

পরবর্তীতে শিক্ষকরাও পাল্টা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন এবং সংবাদ সম্মেলন করেন।

এর প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ গাইনি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. তায়্যেবা তানজিন মির্জাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

কমিটি আজ শনিবার প্রতিবেদন দাখিল করলে সকাল ১১টায় কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শুরু হয়। বিকেল ৫টায় সভা শেষে কলেজ অধ্যক্ষ ডা. চিত্ত রঞ্জণ দেবনাথ সাংবাদিকদের বলেন, 'ডা. আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।' 

একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে 'দুস্কৃতিকারি' আখ্যা দেয়ায় মমেক শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও এম-৫৩ ব্যাচের আব্দুল্লাহ আল হাসানকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ৩ বছরের জন্য সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

শিক্ষকদের হেয় করায় এম-৫৫ ব্যাচের ফায়াদুর রহমান আকাশ ও বিডিএস-৬ ব্যাচের তামান্না তাসকিনকে ২ বছরের জন্য এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মানববন্ধন কর্মসুচিতে স্বেচ্ছায় অংশ নেওয়ায় ৭ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা হলেন, এম-৫৪ ব্যাচের সুনীতি কুমার দাস, সানবীম খান, মাহিদুল হক, তানবিন হাসান এবং এম-৫৫ ব্যাচের কাশফী তাবরীজ, রাপ্পু কর্মকার ও সাখাওয়াত হোসেন সিফাত।

এ ছাড়া শৃঙ্খলাবিরোধী কোনো কার্যক্রমে অংশ না নেওয়ার মুচলেকা নিয়ে ৮ শিক্ষার্থীকে সর্তক করা হয়। তারা হলেন মো. মাহমুদুজ্জামান, মেহরাব হোসেন, নাজমুস সাকিব, মো. রিজভি আল নাহিয়ান হিয়া, মো. জিম রহমান, মো. সাকিব খান শাওন, জেরিন তাসনিম এবং মো. জিহাদুল হক তাঈব।

বহিষ্কৃতরা কলেজের ছাত্রবাসে অবস্থান করতে পারবে না বলেও সভায় সিদ্বান্ত হয়।

এদিকে 'একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত যথার্থ' দাবি করে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি অনুপম সাহা বলেন, 'শাস্তিপ্রাপ্তদের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ছাত্রলীগের কোনো সম্পর্ক নেই।'