পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দিচ্ছেন রাজারহাটের বিকাশ চন্দ্র রায়
করোনা মহামারির সময় পাঠাগারে সমাগম ঘটিয়ে এক সঙ্গে বসে বই পড়া হচ্ছে না পাঠকের। কিন্তু, থেমে থাকেনি তাদের বই পড়া। বাড়িতে বসেই চাহিদা অনুযায়ী বই হাতে পাচ্ছেন তারা। এই কাজটি করছেন বিকাশ চন্দ্র রায় তরুণ (৩৮)।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের বৈদ্যের বাজার গ্রামে ২০০৩ সালে 'তরুণের অভিযান পাঠাগার' প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সেই সময় বিএ প্রথম বর্ষের ছাত্র বিকাশ চন্দ্র রায় তরুণ। মৃত বীরেন্দ্র নাথ রায়ের ছেলে তরুণ পেশায় চিত্রশিল্পী ও প্রেস ব্যবসায়ী। কর্মজীবনের পাশাপাশি তিনি গ্রামে বই পড়ার 'অভিযান' চালিয়ে যাচ্ছেন। তার পাঠাগারে বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি বই আছে। তিনি ২ শতাংশ জমি দান করে সেখানে পাঠাগারটি গড়েছেন।
বিকাশ চন্দ্র রায় তরুণ রাজারহাটে সেলুনগুলোয় গড়ে তুলেছেন ভলান্টিয়ার'স লাইব্রেরি। সেলুনে তৈরি করেছেন বুক সেলফ। গত ৬ মাস ধরে নিয়মিত বই সরবরাহ করছেন সেসব লাইব্রেরিতে। সেলুনে আসা লোকজন তাদের অবসর সময় বই পড়ছেন।
বিকাশ চন্দ্র রায় তরুণ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'করোনা মহামারির সময় পাঠকরা পাঠাগারে যাচ্ছেন না। তারা যেন বই পড়া থেকে বঞ্চিত না হন সেজন্য পাঠকের চাহিদা অনুযায়ী পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দিচ্ছি।'
'সেলুনে ভলান্টিয়ার'স লাইব্রেরির খোঁজখবর রাখছি নিয়মিত। চাহিদা মতো সেখানে বই দিচ্ছি।'
'নিজে সবসময় বই পড়ি এবং অন্যদের বই পড়তে উদ্বুদ্ধ করছি। সমাজকে আলোকিত করতে আমি এই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি,' যোগ করেন তিনি।
রাজারহাট শহরে স্বপ্ন হেয়ার ড্রেসারের মালিক সুধাংশু চন্দ্র শীল ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সেলুনে লাইব্রেরি হওয়ায় আমি ও কাস্টমাররা উপকৃত হচ্ছেন। অনেকে এখান থেকে বই বাড়িতে নিয়ে পড়েন। আবার ফেরত দেন।'
তিনি আরও বলেন, 'তরুণ দাকে ফোন দিলে তিনি চাহিদা মতো বই দিয়ে যান।'
বৈদ্যের বাজার গ্রামের কলেজ শিক্ষার্থী বিথী রানী রায় ডেইলি স্টারকে বলেন, 'করোনার সময় পাঠাগারে যাচ্ছি না। বাড়িতে বসেই চাহিদা মোতাবেক বই পাচ্ছি। তরুণ রায়কে ফোন দিলেই তিনি প্রয়োজনীয় বই সরবরাহ করছেন। তার বই পড়ার অভিযান গ্রামের মানুষকে জ্ঞান চর্চায় উদ্বুদ্ধ করছে।'
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক রাজেন্দ্র নাথ রায় ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বিকাশ চন্দ্র রায় তরুণ নিজের অর্থায়নে বই পড়ার অভিযানকে বেগবান করেছেন। এটা সত্যিই বিরল। কর্মজীবনে ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি পাঠকের চাহিদা পূরণ করছেন। আমরা তার মাধ্যমে উপকৃত হচ্ছি।'
'তরুণের অভিযান পাঠাগার'র সাধারণ সম্পাদক নিগমানন্দ রায় ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বেশ কয়েকটি গ্রামের পাঠকরা এই পাঠাগারের সদস্য। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পাঠাগারটির অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ থেমে আছে। এটিকে মডেল পাঠাগার হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখছি।'
বিকাশ চন্দ্র রায় তরুণ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আয়ের একটি অংশ পাঠাগারের জন্যে ব্যয় করি। এ কাজ আমৃত্যু করে যেতে চাই।'
গ্রামের সবাই বই পড়ার অভিযানে সম্পৃক্ত হয়ে আলোকিত সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করেন তিনি।