‘অনেকের বিশ্বাস জন্মেছে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের প্রয়োজন আছে’
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের অপব্যবহার বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, আমি স্বীকার করি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করার পরে অপব্যবহার ও দুর্ব্যহার হয়েছে। এই অপব্যবহার ও দুর্ব্যহার যাতে বন্ধ হয় আমি সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।
আজ বুধবার দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি চত্বরে ক্র্যাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বাক-স্বাধীনতা বা ফ্রিডম অব প্রেস নেই অনেকে বলেন। বিবিসি এবং অন্যান্য গণমাধ্যম যদি দেখেন—আমাদের দেশে যতগুলো টক-শো হয়, আমার মনে হয় না তত টক-শো অন্যান্য দেশে হয়। এর উল্লেখযোগ্য দিক, যে বিষয় নিয়ে আলাপ হবে একজন সরকার পক্ষ থাকে এবং একজন বিপক্ষ থাকে। কখনোই একপক্ষ হয় না।
ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নিয়ে। এখন কিন্তু অনেকের মনের মধ্যেই এই বিশ্বাস জন্মেছে বাংলাদেশে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের প্রয়োজন আছে। আমি স্বীকার করি, ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করার পরে অপব্যবহার ও দুর্ব্যহার হয়েছে। এই অপব্যবহার ও দুর্ব্যহার যাতে বন্ধ হয় আমি সেই ব্যবস্থা নিয়েছি। গত বছর ডিসেম্বরে ইউনাইটেড নেশনস অফিস অব দ্য হাইকমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস, ওদের আমরা ডায়ালগ শুরু করেছি। বেস্ট প্র্যাকটিসেস অব দ্য ওয়ার্ল্ড, এই আইনের যে অপব্যবহার বন্ধ করতে হয় যা যা করতে হয় তা করার জন্য আমি দুবার তাদের সঙ্গে বসেছি। তারপর আমি লেজিসলেটিভ ডিভিশনের সচিবের নেতৃত্বে একটা দল গঠন করে দিয়েছি। তারা এখন ডায়ালগে আছে। যারা বেস্ট প্যাকটিসেস আমরা বিবেচনা করবো। এই আইনের ক্ষমতা বলে যে বিধিগুলো হবে, সেখানে যেন বেস্ট প্র্যাকটিসেসগুলো থাকে সেটা আমরা নিশ্চিত করবো।
আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি, আইসিটি অ্যাক্ট যেটা ২০০৬ সালে ছিল, ২০১২ সালে সেটা সংশোধন করা হয়। সেখানে কিন্তু একটা সেল গঠন করা হয়েছিল। এই আইনে যেসব মামলাগুলো হবে, আগে সেগুলো আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সেই সেলে যাবে। তারা দেখবে অভিযোগটা সঠিক কি না। যদি মামলা হওয়ার মতো হয়, তখন তারা মামলা করার জন্য সুপারিশ করবে। যতক্ষণ এই তদন্ত প্রক্রিয়া চলবে ততক্ষণ যেন কোনো সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা না হয় সে বিষয়েও আমি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেছি। এখন দেখবেন ডিজিটাল সিকিরিটি অ্যাক্টে কোনো সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সেটা আমরা নিশ্চিত করেছি। এই আইনের যে কাজ সেটা এই আইন করবে। এই আইন কখনোই বাক-স্বাধীনতা বা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার জন্য করা হয়নি, বলেন তিনি।
গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া আপনাদের চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন করে দিয়েছে। এখন সবাই সাংবাদিক হয়ে গেছে। আপনারা পড়ালেখা করে, জেনে-বুঝে এই পেশায় এসেছেন। যারা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন তারা ঘরে বসেই সাংবাদিক হয়ে গেছেন। পেশাদারিত্বের জায়গায় যেন অ্যামেচারিজম চলে না আসে সেটা দেখার দায়িত্ব আপনাদের। সেই জায়গায় সরকার সব রকম সহযোগিতা করবে। গণমাধ্যমকর্মী আইন হওয়ার কথা, যেটা আমার কাছে ছিল। আমি এটা ছেড়ে দিয়েছি। এই আইন শিগগির তথ্যমন্ত্রী এই সংসদে নিয়ে যাবেন। আমরা রাইট টু ইনফরমেশন অ্যাক্ট করেছি। ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট যেন গণমাধ্যমকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে সেটা দেখা হচ্ছে। সরকার বাক-স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় সব রকম সহযোগিতা করে যাবে। এই ব্যাপারে কোনো আপোস সরকার করবে না। আপনাদের ওপর কোনো অত্যাচার হবে না।