অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় এনুসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের পরিচালক ও আওয়ামী লীগের গেন্ডারিয়া থানা ইউনিটের বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি এনামুল হক এনুসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে।

অন্য দুজন হলেন আবুল কালাম আজাদ ও হারুনুর রশিদ। চার্জশিটে তাদের 'পলাতক' দেখানো হয়েছে।

ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ বিচারক মোহাম্মদ ইকদবাল হোসেন আজ রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী ও মামলার বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দি রেকর্ডের পর বিচারক আজ আদালতে হাজির করা এনুর পক্ষে সাক্ষীর জেরা করার জন্য ২৯ মে দিন ধার্য করেন।

সাক্ষী তার জবানবন্দিতে বলেন, তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৩ অক্টোবর এনু ও আরও দুইজনের বিরুদ্ধে ঢাকা-১ এর ইন্টিগ্রেটেড ডিস্ট্রিক্ট অফিসে ২১ দশমিক ৮৯ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন।

কিন্তু এনুর বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে অবৈধ ক্যাসিনো ব্যবসার মাধ্যমে ৪৭ কোটি ৩৬ লাখ ৯১ হাজার ৬৭৭ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে। অবৈধভাবে অর্জিত ৩ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেছিলেন তিনি।

তার দুই সহযোগী হারুন ও আজাদ যথাক্রমে ১ কোটি ৯৯ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ২ কোটি টাকা তাদের কাছে রেখেছিল বলে সাক্ষী তার জবানবন্দিতে জানিয়েছেন।

একই আদালত চলতি বছরের ২৯ মার্চ এ মামলায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

গত বছরের ২৫ আগস্ট দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশিদ চৌধুরী, যিনি নিজেও এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তিনি ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

এনু ও তার ভাই রূপন ভূঁইয়াকে ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের একটি বাসা থেকে তাদের এক সহযোগী শেখ সানি মোস্তফাসহ গ্রেপ্তার করা হয়।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে অবৈধ ক্যাসিনো, বার, স্পা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করার পর এনু ও রূপন আত্মগোপনে চলে যায়।

দুই ভাইয়ের ২০টি বাড়ি, ১২৮টি ফ্ল্যাট, রাজধানীতে ২৫ কাঠা জমি, পাঁচটি গাড়ি এবং ৯১টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১৯ কোটি ১১ লাখ টাকা রয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে একই আদালত গত ৬ এপ্রিল ২ কোটি টাকা অর্থ পাচারের মামলায় এনু, রূপনসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণার জন্য আগামীকাল দিন ধার্য করেন।