ইউপি নির্বাচনে মনোনয়ন না পেয়ে আ.লীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগে মামলা
ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে সৈয়দ সামিউল আলম শরপু (৫০) নামে এক আওয়ামী লীগ নেতাকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ইউপি নির্বাচনে প্রার্থী সৈয়দ তরিকুল ইসলাম বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ৮ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন সৈয়দ সামিউল আলমের ছোট ভাই সৈয়দ জাফরুল হাসান অপু ।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে নড়াইল সদরের গোয়ালবাথান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
হামলায় সৈয়দ সামিউল আলমের ২টি দাঁত ভেঙে যায় এবং হাত, পিঠ ও পায়ের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি নড়াইল সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার বিকেলে চালতেতলা বাজারে এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ সামিউল আলম। সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে গোয়ালবাথান গ্রামে সৈয়দ তরিকুলের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তরিকুল, তার ভাই ও স্বজনরা সামিউলের ওপর হামলা করেন। এসময় তাকে রড ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মাথায়, পায়ে ও মুখে পিটিয়ে আহত করা হয়।
গত ইউপি নির্বাচনে সদরের চন্ডিবরপুর ইউনিয়নে প্রথমে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছিলেন সৈয়দ তরিকুল। পরে তা পরিবর্তন করে আজিজুর রহমান ভূঁইয়াকে মনোনয়ন দেওয়া হলে সৈয়দ তরিকুল ইসলাম ও তার পরিবার সামিউলের ওপর ক্ষুব্ধ হন । সেই ঘটনার জেরেই এই হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
আহত আওয়ামী লীগ নেতা সামিউলের ভাই সৈয়দ জাফরুল হাসান অপু দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তরিকুলসহ আরও ৭ জন আমার ভাইকে চালতেতলা বাজার থেকে ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্র, হাতুড়ি ও দা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। হামলার পর গুরুতর আহত অবস্থায় এবং অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এ ঘটনার প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য থাকলেও আমরা ঝগড়া এড়িয়ে বিচার চাই। গত ৬ মে নড়াইল সদর থানায় ৮ জনকে আসামি করে আমি মামলা করি। আমরা নৃশংস এ হামলার বিচার চাই।'
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত সৈয়দ তরিকুল ইসলামের ২টি মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কবির হোসেন বলেন, 'সৈয়দ তরিকুল ইসলামসহ ৮ জনকে আসামি করে তার ভাই সৈয়দ জাফরুল হাসান অপু বাদী হয়ে মামলা করেছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'