ইছামতির তীরের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাধা নেই

স্টার অনলাইন ডেস্ক

পাবনার ইছামতি নদীর তীর থেকে ৪টি মৌজা থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের স্থিতাবস্থা তুলে নিয়েছেন হাইকোর্ট। ফলে, ইছামতির তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে আর কোনো বাধা থাকল না।

এর আগে, আদালত ইছামতির তীর থেকে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছিল। কিন্তু, আজ রোববার সেই আদেশ বাতিল করে দেন।

উচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পাবনার ৪৩ জনের করা রিট আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

নদী সুরক্ষা সংক্রান্ত মামলার একটি পক্ষ হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) আইনজীবী মনজিল মুরশেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, হাইকোর্টের রায়ের পর পাবনার ইছামতি নদীর জমিতে ৪টি মৌজা থেকে স্থাপনা উচ্ছেদের স্থানীয় প্রশাসনের আইনি বাধা থাকছে না।

তবে, রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী অনীক আর হক বলেন, তার মক্কেল হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করবেন।

এদিকে, আজ হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ একটি রুল জারি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৯টি অবৈধ ইটভাটা বন্ধের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়েছেন সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে।

কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একিউএম সোহেল রানার দায়ের করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

গত ১৫ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯৯টিরও বেশি ইটভাটা আইন মানছে না এবং পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন এবং পরিবেশ অধিদপ্তর (ডিওই) এখনো তাদের বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। যদিও শর্ত আছে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া কোনো ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না।

স্থানীয়দের দাবি, বাজার, ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ফলের বাগান ও অন্যান্য স্থাপনার কাছাকাছি ইটভাটাগুলো স্থাপন করা হয়েছে।

ইটভাটা থেকে নির্গত ধোয়ায় ধানসহ মৌসুমি ফল ও ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলায় ইটভাটা রয়েছে ১৮১টি। এর মধ্যে ৮২টির ছাড়পত্র থাকলেও বাকিরা অবৈধভাবে কাজ করছে। যার মধ্যে ৩০টি ইটভাটা এখন বিভিন্ন কারণে বন্ধ বা পরিত্যক্ত অবস্থায় আছে বলে ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।