ইমামের চাকরি নিয়ে নরসিংদীতে আত্মগোপনে ছিলেন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শফিকুর
রমনা বটমূলে ২০০১ সালে বোমা হামলার মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শফিকুর রহমান ওরফে আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। পলাতক অবস্থায় তিনি নাম পাল্টে নরসিংদীতে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন এবং ধর্মের নামে বিভ্রান্তিমূলক অপব্যাখ্যা প্রচার করতেন বলে জানিয়েছে র্যাব।
২০০১ সালে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পর শফিকুর রহমান ২০০৮ সাল পর্যন্ত আত্মগোপনে থাকেন এবং সে বছর থেকে নরসিংদীর একটি মাদ্রাসায় অবস্থান করেন। সেখানে তিনি আব্দুল করিম নাম ব্যবহার করে একটি মসজিদে মাসিক ৫ হাজার টাকা বেতনে ইমামতির চাকরি নেন।
গত ২১ বছর তিনি এভাবেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন বলে আজ শুক্রবার র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অভিযান চালিয়ে শফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানায় র্যাব।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুর বোমা হামলার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।
বোমা হামলার ঘটনায় ১০ জন মারা যান এবং আরও অনেকে আহত হন। ওই ঘটনার পর রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা এবং একটি বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করা হয়।
হত্যা মামলার বিচার শেষে ২০১৪ সালে আদালত ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
গ্রেপ্তারকৃত শফিকুর রহমান এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
শফিকুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে র্যাব জানায়, তিনি ঢাকার চকবাজারে একটি মাদ্রাসায় ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত পড়াশোনা করে। ১৯৮৩ সালে তিনি ভারতের দারুল উলুম দেওবন্দ মাদ্রাসায় ভর্তি হন এবং দাওরায়ে হাদিস পাস করে ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশে ফেরত আসেন।
১৯৮৭ সালে শফিকুর পাকিস্তানের করাচিতে ইউসুফ বিন নুরী মাদ্রাসায় ফতোয়া বিভাগে ভর্তি হন এবং ৩ বছরের ইফতা কোর্স সম্পন্ন করে।
১৯৮৯ সালে তিনি পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানে যান এবং তালেবানদের পক্ষে যুদ্ধ করেন। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশে ফেরেন।
বাংলাদেশে আসার পর তিনি ঢাকার খিলগাঁওয়ে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা শুরু করেন।
১৯৮৭ সালে পাকিস্তানে পড়াশোনা করার সময় সেখানে তার সঙ্গে মুফতি হান্নানের পরিচয় হয়। আফগানিস্তান থেকে দেশে এসে জঙ্গি সংগঠন 'হরকাতুল জিহাদ (বি)' গঠনের পরিকল্পনা করেন।
হরকাতুল জিহাদ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯০ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত শফিকুর সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক ছিল। ১৯৯৩ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত হরকাতুল জিহাদের আমির ছিলেন তিনি।