২ বছর পর ছন্দ ফিরছে বৈশাখের বেচাকেনায়

সুকান্ত হালদার
সুকান্ত হালদার

পহেলা বৈশাখ ঘিরে দুই বছর পর দেশে পোশাকের বিক্রিতে এই বছর ছন্দ ফিরতে শুরু করেছে।

পোশাক ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি ঈদ ও নববর্ষ কাছাকাছি সময়ে হওয়ার কারণে গত দুই বছর বিক্রি স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ কম ছিল। আর মিষ্টি ও জুতার ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, প্রত্যাশার চেয়ে কম হলেও গত দুই বছরের তুলনায় এবার বিক্রি বেড়েছে।

ফ্যাশন ব্র্যান্ডের খুচরা বিক্রেতারা জানিয়েছেন, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ায় ক্রেতাদের আস্থা ফিরেছে। দোকানেও ভিড় বেড়েছে। মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে ঈদুল ফিতরের ছুটি থাকায় ব্যবসায়ী ও তাঁতি-কারিগররা বৈশাখের প্রস্তুতিতে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় পেয়েছেন।

ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ফ্যাশন উদ্যোক্তা সমিতি (এফইএবি বা ফ্যাশন উদ্যোগ) ২০১২ সালে একটি জরিপ করেছিল। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের ফ্যাশন হাউসে সারা বছর ছয় হাজার কোটি টাকার বেচাকেনা হয়। তার মধ্যে ৫০ শতাংশই হয় রোজার ঈদে। ২৫ শতাংশ হয় পয়লা বৈশাখে। বাকিটা সারা বছর। ছয় হাজার কোটি টাকার সেই বাজার গত এক দশকে অনেক বেড়েছে বলে জানালেন সমিতির নেতারা।

রঙ বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৌমিক দাস জানান, গত দুই মৌসুমের তুলনায় এ বছরের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে ভালো।

দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ঈদ ও পহেলা বৈশাখের মধ্যে সময় কম থাকায় প্রস্তুতি সীমিত ছিল, তবে ক্রেতাদের উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ভোক্তাদের ব্যয় কমানোর প্রবণতার পরও এবার বিক্রি ভালোই হচ্ছে।

এদিকে, কে ক্রাফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা খালিদ মাহমুদ খান বলেন, গত বছরের তুলনায় এ বছর বৈশাখের পণ্যের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে।

বাজারজুড়ে পাইকারি বিক্রেতা ও শাড়ি ব্যবসায়ীরাও বিক্রি বাড়ার প্রবণতা দেখছেন। উৎপাদন পর্যায়ে তাঁতি ও কারিগররাও ভালো সাড়া পাচ্ছেন, যা বৈশাখী পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, বলেন তিনি।

অঞ্জন’স-এর স্বত্বাধিকারী শাহীন আহমেদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, লম্বা সময় পর এই বছর আমরা বৈশাখ উপলক্ষে নতুন পণ্য তৈরি করেছি, আর এতে ভালো সাড়া মিলেছে।

তবে বিক্রি এখনো ২০২০ সালের আগের অবস্থায় পৌঁছায়নি। ওই সময়ের তুলনায় উৎপাদনের মাত্রাও এখনো বেশ কম, বলেন তিনি।

সারা লাইফস্টাইলের পরিচালক শরিফুন রেবা বলেন, ক্রেতাদের আগ্রহ স্থিতিশীল থাকায় এ মৌসুমে বিক্রি কিছুটা বেড়েছে।

আর্থিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও লাইফস্টাইল পণ্যের চাহিদার কারণে বাজার কিছুটা ইতিবাচক রয়েছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি এখনও সীমিত, বলেন তিনি।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মার্কেটিং ডিরেক্টর কামরুজ্জামান কামাল বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় এ বছর মিষ্টির বিক্রি ভালো। কেননা, গত বছর রমজানের সঙ্গে পহেলা বৈশাখের সময় মিলে গিয়েছিল।’ 

এ বছর করপোরেট ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে প্রি-অর্ডার প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে প্রিমিয়াম সুইটসের বাংলাদেশ প্রধান মাহবুবুর রহমান বকুল বলেন, ‘অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার ক্রেতা ও চাহিদা কম। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ভোক্তাদের ব্যয়ের ওপর প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে খুচরা বাজারে।’

এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্র্যান্ড ও মার্কেটিং ম্যানেজার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, এ বছর ক্রেতাদের আগ্রহ ও উপস্থিতি তুলনামূলক কম। ঈদের পরপরই বৈশাখ হওয়ায় অনেকে আগেই তাদের কেনাকাটা শেষ করেছেন।

সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ হওয়ায় কমেছে বিক্রি

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের কারণে সরকারি নির্দেশে দেশজুড়ে শপিং সেন্টারগুলো সন্ধ্যা ৭টার পর বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।  

ব্যবসায়ীরা জানান, দোকান খোলার সময় রাত ৭টা পর্যন্ত সীমিত না থাকলে বিক্রি আরও বাড়ত। অনেকেই অফিস শেষে কেনাকাটা করতে পছন্দ করেন।

শরিফুন রেবা বলেন, ‘সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকটে পরিবহন ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় অনেক ক্রেতা চাহিদামাফিক দোকানে আসতে পারছেন না। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় প্রায় ৫০ শতাংশ বিক্রির সম্ভাবনা নষ্ট হচ্ছে।’