ঈশা খাঁ নৌ ঘাঁটিতে বোমা হামলা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু
চট্টগ্রামে নৌবাহিনীর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে ২০১৫ সালে বোমা হামলার ঘটনায় করা মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছে। বুধবার চট্টগ্রামের ২য় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. আমিরুল ইসলাম সাক্ষ্যগ্ৰহণ শুরু করেন।
প্রথম দিনে নৌবাহিনীর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ এবং তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা লে. কমান্ডার আশিক উর রহমান সাক্ষী দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আবু সাঈদ বর্তমানে পটুয়াখালী কোস্টগার্ড সিজি কেজি অগ্ৰযাত্রা এবং আশিক উর রহমান বর্তমানে নৌ সদর দপ্তর ঢাকায় কর্মরত আছেন।
আশিক ঘটনার সময় মসজিদে নামাজরত অবস্থায় ছিলেন এবং বোমা বিস্ফোরণে আহত হন।
আদালত আগামী ১১ মে পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেছেন বলে জানিয়েছেন মো. ফখরুদ্দিন চৌধুরী।
এর আগে গত বছরের নভেম্বরে এ মামলায় জেএমবির ৫ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করার পর বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।
অভিযুক্তরা হলেন-হলেন আবদুল মান্নান, রমজান আলী, বাবলু রহমান, আবদুল গাফফার এবং এম সাখাওয়াত হোসেন।
তাদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেনকে অভিযোগপত্রে মৃত উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০১৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর ঈশা খাঁ ঘাঁটির ভেতরে পতেঙ্গা মসজিদে ২টি বোমা (গ্রেনেড) নিক্ষেপ করেন আবদুল মান্নান। তখন ছোটাছুটি শুরু হলে মান্নান ভিড়ের সঙ্গে মিশে যান।
কিন্তু তার হাতে ইলেকট্রিক সুইচ দেখে তাকে আটক করা হয়। তখন আবদুল মান্নান আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণের চেষ্টা করেও সফল হননি।
পতেঙ্গা মসজিদে হামলার ১০ মিনিট পর ঈশা খাঁ ঘাঁটির আরেকটি মসজিদে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ওই মসজিদে জুমার নামাজ শুরু হলে রমজান আলী মসজিদে দুটি বোমা (গ্রেনেড) নিক্ষেপ করেন। পরে তাকেও ধরে ফেলা হয়।
মামলার অপর আসামি বাবলু রহমানকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ঝিনাইদহ থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। অন্য মামলায় কারাগারে থাকা আবদুল গাফফারকে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখান।
অপর আসামি নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য এম সাখাওয়াত হোসেন ঘটনার পরপরই পালিয়ে যান।
দুটি মসজিদে বোমা হামলায় নৌবাহিনীর কর্মকর্তাসহ ২৪ জন আহত হন।
হামলার ঘটনার ৯ মাস পর ২০১৬ সালের ৩ সেপ্টেম্বর নৌবাহিনীর নেভাল প্রভোস্ট মার্শাল কমান্ডার এম আবু সাঈদ বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী ও বিস্ফোরক আইনে চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানায় মামলা করেন। এর ২২ মাস পর পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দেয়।