বিশ্লেষণ

খ্রিষ্টধর্মের প্রসার বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে, কমছে যুক্তরাজ্যে—বিশ্ব রাজনীতিতে কী প্রভাব

স্টার অনলাইন ডেস্ক

স্বনামধন্য ঐতিহাসিক টম হল্যান্ড আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। তার কোনো নতুন বা পুরোনো বই বা নতুন-পুরোনো লেখা নিয়ে নয়। তিনি শিরোনাম হয়েছেন তার ধর্মবিশ্বাস নিয়ে।

একসময়ের ধর্মবিমুখ হল্যান্ড এখন ‘ধর্মমুখী’। ‘ধর্ম ভাবনায়’ পরিবর্তন আসায় এই ব্রিটিশ ঐতিহাসিককে নিয়ে এক দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন।

গত ৭ এপ্রিল সিএনএন-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়—প্রাচীন ইতিহাস নিয়ে কাজ করা টম হল্যান্ড বিশ্বসভ্যতায় খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব নিয়ে লেখা ‘ডমিনিয়ন: হাউ দ্য ক্রিশ্চিয়ান রেভ্যুলুশন রিম্যাক দ্য ওয়ার্ল্ড’ বইয়ে লিখেছেন—খ্রিষ্টবাদের মৃত্যু নিয়ে যা বলা হচ্ছে তা অনেকটাই বাড়িয়ে বলা।

বিশ্বসভ্যতায় খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব নিয়ে লেখা ‘ডমিনিয়ন: হাউ দ্য ক্রিশ্চিয়ান রেভ্যুলুশন রিম্যাক দ্য ওয়ার্ল্ড’ বই। ছবি: অ্যামাজন

তার মতে, অনেক ধর্মহীন বা ধর্মবিমুখ খ্রিষ্টানের অন্তরেও খ্রিষ্টধর্ম লুকিয়ে থাকে। তারা তা জানেন না।

সংবাদ প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়—২০২১ সালের ঘটনা। হল্যান্ড দুরারোগ্য ক্যানসারে আক্রান্ত। চিকিৎসকরা তাকে এক জটিল অস্ত্রোপচারের কথা বলেছেন। তার শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে বুঝতে আরও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।

সেই বছর বড়দিনের সন্ধ্যায় লন্ডনের অন্যতম পুরোনো গির্জা সেন্ট বারথোলোমিউ দ্য গ্রেট-এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দেন টম হল্যান্ড। দ্বাদশ শতকের সেই গির্জা ভার্জিন মেরির ভাস্কর্যের জন্য বিখ্যাত। অনুষ্ঠান শেষে ৫৮ বছর বয়সী হল্যান্ড এমন কাজ করলেন যা তিনি গত ৪৮ বছর করেননি।

হল্যান্ড তার প্রভুর কাছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করলেন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে একজন মানুষ যেমন প্রার্থনা করেন। হল্যান্ডের ভাষায়—‘আমি সাহায্য চেয়ে প্রার্থনা করেছিলাম।’

তারপর যা ঘটে তা অনেক আলোচনার জন্ম দেয়। সেসব কথা ছড়িয়ে পড়ে পুরো দুনিয়ায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় জানা যায় যে হল্যান্ডের ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ছে না। এখন তিনি ক্যানসারমুক্ত।

সিএনএন-এর প্রতিবেদন প্রকাশের ঠিক ২ দিন আগে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক চিঠিতে বলা হয়—‘ব্রিটেনে খ্রিষ্টধর্মের পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা নেই’।

এতে বলা হয়, ব্রিটিশ সোশ্যাল অ্যাটিটিউড (বিএসএ) জরিপের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে—১৬ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের প্রতি ১০ জনের ৬ জন বলেছেন তাদের কোনো ধর্ম নেই।

দেশটির সাধারণ জনগণের প্রতি ১০ জনের একজন চার্চ অব ইংল্যান্ডের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রে বিপরীত চিত্র

 

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে দেখা যাচ্ছে এর বিপরীত চিত্র। শুধু তাই নয়, আটলান্টিকের পশ্চিমপারের দেশটিতে গত কয়েক দশকের মধ্যে এমন ঘটনা দেখা গেল। সংখ্যাগরিষ্ঠ খ্রিষ্টানের এই দেশে তরুণদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব বাড়ছে। আয়োজন করা হচ্ছে গণ-ব্যাপ্টিজমের। এতে অংশ নিচ্ছেন হাজারো তরুণ।

গত ৪ এপ্রিল ফক্স নিউজের এক ভিডিও প্রতিবেদনে দেখা যায়—হাজারো তরুণ অংশ নিচ্ছেন খ্রিষ্টধর্মীয় সংগীতের অনুষ্ঠানে। কলেজ ক্যাম্পাসগুলোয় আয়োজন করা হচ্ছে গণ-প্রার্থনা, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও খ্রিষ্টধর্ম বিষয়ে আলোচনা।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়—মার্কিন সমাজে আগের প্রজন্মগুলোর তুলনায় জেন জি প্রজন্মের মানুষদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্ম নিয়ে আগ্রহ বেশি দেখা যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে বাইবেল বিক্রি বেশ বেড়েছে।

এতে আরও বলা হয়, তরুণরা যে ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন তা তাদের বাপ-দাদাদের তুলনায় ভিন্ন। এক সঙ্গে হাজারো তরুণ ধর্মচর্চায় অংশ নিচ্ছেন। তরুণ ইনফুয়েন্সাররা সমাজমাধ্যমে নানান ভঙ্গিতে খ্রিষ্টধর্মের গুরুত্ব অনুসারীদের কাছে তুলে ধরছেন।

মার্কিন প্যাস্টর জেসি ব্র্যাডলি ফক্স নিউজকে বলেন, ‘এই মৌলবাদী প্রজন্মের মানুষজন বিশ্বাস করেন ঈশ্বর মহান কিছু করতে পারেন।’

গত বছর ১৫ অক্টোবর ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে মার্কিন সমাজে খ্রিষ্টান পরিবারের তরুণদের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব বেড়ে যাওয়ার তথ্য পরিসংখ্যানের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

অন্যের শেয়ার করা সেই প্রতিবেদনটি আমেরিকার জনপ্রিয় বাস্কেটবল খেলোয়াড় ও নিউইয়র্ক নিকসের তারকা জশুয়া অ্যারন হার্টি বা জশ হার্ট আবারও শেয়ার করেন।

যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টধর্মের প্রসার ও প্রভাব বেড়ে যাওয়ায় সমাজমাধ্যমে তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

বাজারে প্রকাশিত বইয়ের তথ্য বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সারকানা বুকস্ক্যানের বরাত দিয়ে ফক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়—২০২২ সালের পর যুক্তরাষ্ট্রে বার্ষিক বাইবেল বিক্রি বেড়েছে ৪১ দশমিক ৬ শতাংশ।

এতে আরও বলা হয়—ডিজিটাল অর্থনীতি বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান সেনসর টাওয়ারের হিসাবে—ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিকতাবিষয়ক অ্যাপ ডাউনলোড বেড়েছে ৭৯ দশমিক ৫ শতাংশ।

সংগীতবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিউজিক ইনসাইটস অ্যাট লুমিন্যাটের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়—সমকালীন খ্রিষ্ট ধর্মীয় ভাবধারার গান শোনার প্রবণতা বেড়েছে ৫০ শতাংশ।

সেই বছর ৪ অক্টোবর ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল: ‘জেন জি-রা ব্যাপক সংখ্যায় গির্জায় যাচ্ছেন। খ্রিষ্ট মতবাদের পুনরুত্থান।’

ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টানদের জরিপ প্রতিষ্ঠান ব্যার্না গ্রুপের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, মিলেনিয়াল প্রজন্মের নারী-পুরুষদের গির্জা ছাড়ার হার যখন অনেক, তখন জেন জি-দের মধ্যে খ্রিষ্টধর্মের প্রভাব ব্যাপক।

 

‘অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের যুদ্ধ’

 

ট্রাম্পভক্তরা ইরান যুদ্ধকে ‘ধর্মযুদ্ধ’ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছেন। এমনকি, অতি-উৎসাহীরা আরও বহু ধাপ এগিয়ে ট্রাম্পকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করতে ছাড়ছেন না।

গত ২১ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ চলাকালে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক ছবিতে দেখা যায়—ইসরায়েলের তেল আবিবে এক বিলবোর্ডে ট্রাম্পের ছবির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পতাকা। আর এক পাশে লেখা—‘ঈশ্বর ও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ’।

গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধাবস্থায় সংবাদ সংস্থাটি এক প্রতিবেদনের শিরোনামে জানায়—ইভানজেলিক্যালরা ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধকে গভীরভাবে ধর্মের মোড়কে মুড়িয়ে নিচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান যুদ্ধ অজনপ্রিয় হওয়ায় মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প ভক্তদের উৎসাহ দিতে খ্রিষ্টীয় চেতনা উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল খ্রিষ্টান ইভানজেলিক্যালদের একটি বড় অংশ ভীষণভাবে ট্রাম্পভক্ত। তারা ইরান যুদ্ধকে ‘অধর্মের বিরুদ্ধে ধর্মের লড়াই’ বলে মনে করছেন। তারা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ধর্মের রক্ষক’ বলে মনে করছেন।

ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোয় খ্রিষ্টধর্মকে ব্যবহার করছেন, উল্লেখ করে রয়টার্সের প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়—মার্কিন রাষ্ট্রপতি ইরানে নিখোঁজ বৈমানিককে উদ্ধারের সফলতাকে ‘ইস্টারের অলৌকিক উপহার’ হিসেবে দেখছেন।

এ ছাড়াও, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলাকে ‘ঈশ্বরের আশীর্বাদ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ আরও এক ধাপ এগিয়ে চরম ধ্বংসাত্মক এই যুদ্ধের পক্ষে নিজের মতকে প্রতিষ্ঠিত করতে বাইবেলের অংশবিশেষ পাঠ করেন। তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুরা ক্ষমার যোগ্য নয়’।

যুদ্ধমন্ত্রীর এমন বয়ান ট্রাম্পভক্ত অন্য রক্ষণশীল খ্রিষ্টান নেতারাও প্রচার করে চলেছেন। তারা বাইবেলের বরাত দিয়ে আধুনিক ইসরায়েল রাষ্ট্রের অস্তিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরছেন। অনেক রক্ষণশীল ইভানজেলিক্যাল মতধারার খ্রিষ্টান চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতকে বাইবেলে বর্ণিত ‘যিশু আবার ফিরে আসার’ ভবিষ্যৎবাণীর সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

গত ৪ মার্চ আল জাজিরার এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়—কেন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল চলমান সংঘাতকে ধর্মযুদ্ধের আবহ দিচ্ছে। এতে বলা হয়, যুদ্ধের পঞ্চম দিনে দেখা যাচ্ছে যে মার্কিনি ও ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ধ্বংসাত্মক সামরিক অভিযানকে ধর্মযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মুসলিমদের নাগরিক অধিকারবিষয়ক সংগঠন দ্য কাউন্সিল অব অ্যামেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (সিএআইআর) দেশটির সেনা সদরদপ্তর পেন্টাগনের ইরান যুদ্ধ সংক্রান্ত বক্তব্যকে ‘বিপদজনক’ ও ‘মুসলিমবিরোধী’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

ধর্মীয় অধিকারবিষয়ক মার্কিন প্রতিষ্ঠান মিলিটারি রিলিজিয়াস ফ্রিডম ফাউন্ডেশনের (এমআরএফএফ) ভাষ্য: তারা ইমেলে অভিযোগ পেয়েছে যে মার্কিন সেনাদের ইরান যুদ্ধকে বাইবেলে উল্লেখ করা ‘আর্মাগেডন’ বা ‘অধর্মের সঙ্গে ধর্মের শেষ লড়াই’ হিসেবে দেখতে বলা হয়েছে।

এক সেনা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমআরএফএফ-কে জানায়, এক কমান্ডার ‘ইরান যুদ্ধকে ঈশ্বরের পবিত্র পরিকল্পনার অংশ হিসেবে’ দেখার জন্য সেনাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

গত ১৪ মার্চ মিডল ইস্ট আইয়ের এক মতামতের শিরোনামে প্রশ্ন রাখা হয়—‘ইরানের বিরুদ্ধে পবিত্র যুদ্ধের মধ্যে পশ্চিমের দেশগুলো ইহুদি-খ্রিষ্টান দ্বন্দ্বের শেকড় খুঁজবে কি?’

এতে বলা হয়—যদিও অধিকাংশ ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় চরমপন্থাকে প্রত্যাখ্যান করেন তবুও ইরান যুদ্ধকে গ্রহণযোগ্যতা দিতে কেনো ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের উগ্রবাদী মতবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এ ঘটনার তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করা হয়।

এই যুদ্ধের মাধ্যমে অন্য দেশ দখল ও বেসামরিক মানুষদের নির্বিচারে হত্যা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়।

দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্রাজুয়েট স্টাডিজ এর অধ্যাপক ও কলামটির লেখক মোহাম্মদ আল মাসরি মনে করেন—ইহুদি ও খ্রিষ্টধর্মের উগ্রবাদী ভাবনার জোরালো প্রচার আগামীতে ইহুদি-খ্রিষ্টান দ্বন্দ্বের মূল কারণ খোঁজার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

গত ৫ এপ্রিল দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ‘খ্রিষ্টবাদ কি ফিরে আসছে?’ শিরোনামের এক মতামতে বলা হয়—ইস্টার সানডের অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রতিষ্ঠানগুলোয় উপচে পড়া ভিড় দেখে অনেকে মনে করছেন, এটি খ্রিষ্টধর্মের ফিরে আসার লক্ষণ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টাইমস-এর প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে মার্কিন গণমাধ্যমটির মতামতে আরও বলা হয়, বহু মানুষ ক্যাথলিক মতাদর্শের দিকে ঝুঁকছেন।

 

বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব

 

গত ২৩ ফেব্রুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলে মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের টিকে থাকা ইহুদিদের ধর্মীয় অধিকার।

যুক্তরাষ্ট্রে উগ্র ডানপন্থি ভাবাদর্শের ধারক হিসেবে পরিচিত ও ফক্স নিউজের সাবেক সঞ্চালক টাকার কার্লসনকে এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন—মিশরের নীলনদ থেকে শুরু করে ইরাকের ফোরাত নদী পর্যন্ত বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অর্থাৎ, আজকের লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান ও সৌদি আরব নিয়ে ইসরায়েল রাষ্ট্র গড়ে তোলার অধিকার ঈশ্বর ইহুদিদের দিয়েছেন।

অনেকে মনে করেন—আরব ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্যের নিন্দা করলেও বাস্তবতা হচ্ছে—রাষ্ট্রদূত হাকাবির এমন ‘ধর্মীয়’ বয়ান থেকে এটা পরিষ্কার হয় যে যুক্তরাষ্ট্রে ‘খ্রিষ্টান জায়নবাদী’রা রাষ্ট্রক্ষমতায় বেশ প্রভাবশালী।

লেখক ও ঐতিহাসিক ডেভিড সুইফট আল জাজিরাকে বলেন, ১৯৪৮ সালের আগেও অনেক ইভানজেলিক্যাল ও অন্য মতাদর্শের খ্রিষ্টান ঐতিহাসিক ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে সমর্থন দিয়েছিলেন। কিন্তু, তাদেরকে খ্রিষ্টান জায়নবাদী বলা হতো না।

Pope Leo XIV saying mass at the Basilica of Saint Augustine in Annaba, Algeria on April 14, 2026.
বাইবেল হাতে পোপ। ছবি: কালেক্টেড

বর্তমানে ইসরায়েলপন্থি খ্রিষ্টানদের ‘খ্রিষ্টান জায়নবাদী’ বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের একাধিপত্যের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ডেভিড সুইফটের মতে, ‘খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা ধর্মের সঙ্গে সেনাবাহিনী, রাজনৈতিক কৌশল ও এমনকি, অর্থনৈতিক কর্মসূচিকেও যোগ করে নিচ্ছে।’

ফিলিস্তিনবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আল-শাবাকার কর্মকর্তা ফাতি নিমার সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, খ্রিষ্টান জায়নবাদীরা ইসরায়েলি সরকারকে প্রশ্নাতীত সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন।’

তিনি জানান, এক খ্রিষ্টান জায়নবাদী জেরুসালেমে এসে ফিলিস্তিনিদের দুর্দশা দেখে বলেছিলেন, ‘ওদের জন্য কষ্ট হচ্ছে। কিন্তু, ধর্মে যা বলা আছে তা পরিবর্তন করা যাবে না।’

ফাতি নিমার খ্রিষ্টান জায়নবাদীদের ধর্মীয় বয়ানকে ‘মস্তিষ্ক ধোলাইয়ের’ বড় অস্ত্র বলে মন্তব্য করেন।

এমন বাস্তবতায় অনেকে দেখছেন যে ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যতটা ধ্বংসাত্মক রূপে দেখা গেছে ঠিক যেন ততটাই নীরব থেকেছে এই দুই রাষ্ট্রের ‘অভিভাবক’ হিসেবে বিবেচিত যুক্তরাজ্য।

এখন প্রশ্ন—তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে খ্রিষ্টধর্মের প্রসারের কারণেই কি দেশটি বিশ্বমঞ্চে এমন উগ্র আচরণ করছে? আর যুক্তরাজ্যে এর বিপরীত চিত্রই কি দেশটিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শান্ত করে দিচ্ছে? তাহলে এই দুই দেশের জনগণের ধর্ম বিশ্বাস কি বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে চলেছে?

তবে আগামীর হাতে রাখা থাকলো এসব প্রশ্নের জবাব।