এফবিসিসিআইসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে হাইকোর্টের তিরস্কার
নারায়ণগঞ্জের ফুড ফ্যাক্টরিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫১ জনের মৃত্যু ও অসংখ্য শ্রমিক আহত হওয়ার পরও কার্যকরী কোনো ভূমিকা না রাখায় ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ড্রাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) সহ দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে তিরস্কার করেছেন হাইকোর্ট।
আজ বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোকে তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন না করার কারণে সমালোচনা করেন।
হাইকোর্ট বেঞ্চ বলেন, ‘ওই ‘‘ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায়’’ বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন। কিন্তু, কোনো ব্যবসায়ী সংগঠন এমনকি এফবিসিসিআইয়ের পক্ষ থেকে শোক পর্যন্ত প্রকাশ করা হয়নি। শোক জানিয়ে কোনো বিবৃতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। যেন এখানে তাদের কোনো দায়ই নেই।’
‘ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর কোনো প্রতিনিধিকে দুর্ঘটনায় হতাহতদের পাশে দাঁড়াতে বা ঘটনাস্থলে যেতে দেখা যায়নি। তাদের ব্যস্ত থাকতে দেখা যায় প্রণোদনা সুবিধা নিতে এবং সরকারের কাছে ব্যাংক ঋণ মওকুফের জন্য’, বলেন বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম।
গত ৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ (সেজান জুস) ফ্যাক্টরিতে দুর্ঘটনার শিকার হওয়া কর্মীদের যথাসময়ে বেতন-বোনাস দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিতে হাইকোর্টে আবেদন করে চারটি মানবাধিকার সংগঠন। তাদের আবেদনের শুনানির সময় হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব কথা বলেন।
বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিদিন সংবাদপত্র পড়ার চেষ্টা করি। তবে, দুর্ভাগ্যবশত এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো তাদের যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে বলে আমার চোখে পড়েনি। তাদের উচিত ছিল ওই কারখানার ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো পর্যবেক্ষণ করা। বিদেশিদের চাপে পড়ে দেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিগুলোতে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে। যতক্ষণ না তাদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, ততক্ষণ তাদের কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন হয়নি।’
‘কারখানা পরিদর্শক সংস্থা তাদের দায়িত্ব ঠিকমতো পালন করছে কি না, সেটাও তদন্ত করে দেখা দরকার। আমি খবরের কাগজগুলোতে দেখলাম, কারখানা পরিদর্শক ওই পরিদর্শনে গিয়েছিলেন এবং খাম হাতে ফিরে আসেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর এ নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে’, বলেন হাইকোর্টের এই বিচারপতি।
আদালত আরও বলেন, দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এ ব্যাপারে দায়-দায়িত্ব রয়েছে। দেশের শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় তাদের কাজ করা উচিত।’
আইনজীবী সারা হোসেন ও অনীক আর হক এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আদেশের জন্য আদালতের সামনে তাদের আবেদন উপস্থাপন করেন।
তবে, ‘কর্মীদের বেতন দেওয়া হচ্ছে এবং শুক্রবারের মধ্যে বোনাসও দেওয়া হবে’ গণমাধ্যমে এই সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে উল্লেখ করে হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে কোনো আদেশ দেননি। যদি বোনাস না দেওয়া হয় তাহলে এ বিষয়ে পরবর্তী আদেশ দেওয়া হবে বলেও জানান আদালত।
এর আগে গত ১১ জুলাই আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা) ও সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি (এসআরএস) এই চার মানবাধিকার সংগঠন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদন করেন। আবেদনে নারায়ণগঞ্জের হাসেম ফুড ফ্যাক্টরির অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রত্যেকের পরিবারকে এক কোটি টাকা ও আহতদের প্রত্যেককে ৩৫ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন করা হয়।
এছাড়া তারা ওই ফ্যাক্টরিতে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের নির্দেশ ও দোষীদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি দেওয়ার বিষয়ে আদালতের নির্দেশের জন্য আবেদন করা হয়।