এলজিইডি প্রকৌশলীকে পেটানোর অভিযোগ আ.লীগ নেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)'র উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী এ এম হাদিউজ্জামান আশিককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল ইসলাম সেলিম হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক। তিনি এলজিইডি'র একজন ঠিকাদার।

এ ঘটনায় সোমবার রাতে হাতীবান্ধা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন এলজিইডি'র সহকারী প্রকৌশলী আশিক।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একটি নির্মাণ কাজের ব্যাপারে আমার কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতে না পেরে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সেলিম ক্ষুব্ধ ছিলেন। মোবাইলে আমাকে একাধিকবার হুমকিও দিয়েছেন। রোববার বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেটের সামনে ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম ও তার লোকজন অকথ্য ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করে এবং এলোপাথারি মারধর করতে থাকে। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আমি রক্ষা পাই।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার রাতে এ ঘটনায় হাতীবান্ধা থানায় একটি জিডি করেছি। ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সেলিম ও তার লোকজনের কারণে আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।'

এদিকে তার বিরুদ্ধে আনা এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও ঠিকাদার শহিদুল ইসলাম সেলিম।

তিনি বলেন, 'রোববার দুপুরে তার অফিসে গেলে তিনি একটি কাজের বিপরীতে মোটা অঙ্কের টাকা ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ দিতে রাজি না হওয়ায় সহকারী প্রকৌশলী আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। এ ঘটনায় তার সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়েছিল। পরে বিষয়টি নিজেদের মধ্যে মীমাংসাও হয়ে যায়। আমাকে হয়রানি করতে সহকারী প্রকৌশলী মিথ্যা অভিযোগ করে জিডি করেছেন।'

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী নজীর হোসেনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, 'ঠিকাদার শহিদুল ইসলামে সেলিম রোববার দুপুরে অফিসেই আসেননি। সহকারী প্রকৌশলী আশিক আমার পাশের রুমে বসেন। সেখানে কোনো ধরনের বাকবিতণ্ডা হলে আমি অবশ্যই শুনতে পেতাম।'

সহকারী প্রকৌশলীকে হেনস্থা করে মারধরের পর ঠিকাদার ঘুষ দাবির এই মিথ্যা নাটক সাজানোর অপচেষ্টা করছেন বলে জানান তিনি।

হাতীবান্ধা থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) এরশাদুল আলম বলেন, 'শহিদুল ইসলাম সেলিম নামে এক জনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা এলজিইডি অফিসের সহকারী প্রকৌশলী এ এম হাদিউজ্জামান আশিক একটি জিডি করেছেন। পুলিশ জিডির বিষয়ে তদন্ত করছে। সহকারী প্রকৌশলীর নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।'