কক্সবাজারে পর্যটক ধর্ষণ: গ্রেপ্তার আরও ৩

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে বেড়াতে যাওয়া এক নারীকে 'সংঘবদ্ধ ধর্ষণের' ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে টুরিস্ট পুলিশ। তবে, তারা কেউ এই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন।

আজ রোববার এবং গতকাল রাতে কক্সবাজারের বিভিন্ন স্থানে চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ৩ আসামি হলেন- রেজাউল করিম সাহাবুদ্দীন (২৫), মেহেদী হাসান (২১) ও মামুনুর রশীদ (২৮)।

আজ দুপুর ২টায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবণী পয়েন্টে টুরিস্ট পুলিশের কক্সবাজার জোন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ট্যুরিস্ট পুলিশ চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দীন।

তিনি বলেন, 'মামলার তদন্তের সময় বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া ওই নারীর জবানবন্দি এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের তদন্তের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে গ্রেপ্তার ৩ জন এ ঘটনায় জড়িত ছিলো।'

তবে, মামলার এজাহারভুক্ত ৩ আসামি আশিকুল ইসলাম আশিক, ইসরাফিল হুদা জয় ও মেহেদী হাসান বাবুকে এখনো গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

তাদের বিষয়ে জানতে চাইলে অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মুসলিম উদ্দীন বলেন, 'তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের কয়েকটি টিম কাজ করছে এবং অভিযান চালাচ্ছে। আশাকরি শিগগির তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি রিয়াজ উদ্দীন ছোটনকে আদালতের আদেশে ৪ দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ট্যুরিস্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রেপ্তার ৩ জনকে পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে তাদের রিমান্ডের আবেদন করা হবে কিনা। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।'

গত বুধবার সন্ধ্যায় সংঘবদ্ধ একটি চক্র কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট থেকে ২৫ বছর বয়সী এই নারী পর্যটককে তুলে নিয়ে যায়। ওই নারীর অভিযোগ, তাকে তুলে নেওয়া ব্যক্তিরা তার স্বামী-সন্তানকে জিম্মি করে ও তাদের হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ২ দফা ধর্ষণ করে।

পরে খবর পেয়ে ওই দিন গভীর রাতে জিয়া গেস্ট ইন নামের ওই আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় র‌্যাব। আটক করা হয় রিয়াজ উদ্দিন ছোটনকে।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ওই নারীর স্বামী ৪ জনের নাম উল্লেখ করার পাশাপাশি অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৩ জনসহ মোট ৭ জনকে আসামি করে কক্সবাজার সদর থানায় নারী নির্যাতন আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্তভার দেওয়া হয় ট্যুরিস্ট পুলিশকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন জানান, শুক্রবার রাতে ঘটনার ব্যাপারে ভুক্তভোগী নারী কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।