কক্সবাজারে শিক্ষার্থী অপহরণ: জড়িত সন্দেহে ৩ রোহিঙ্গা আটক

নিজস্ব সংবাদদাতা, কক্সবাজার

কক্সবাজারে ৪ স্কুল শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। অপহরণের ৩ দিন পার হলেও এখনো কাউকে উদ্ধার করা যায়নি।

১৬- আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ানের (এপিবিএন) অধিনায়ক পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আজ শুক্রবার সকালে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে অবস্থিত ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে  অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ৩ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতরা হলেন টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এইচ ব্লকের বাসিন্দা নজির আহাম্মদের ছেলে নুর সালাম (৫০),  নুর সালামের মেয়ে রনজন বিবি (১৩) ও আবুল কাদেরের ছেলে সাদ্দাম মিয়া (৩৫)।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আটক ৩ জনই অপহরণের ঘটনায় জড়িত রোহিঙ্গা যুবক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের আত্মীয়-স্বজন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে টেকনাফ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'

জানা গেছে, গত ৭ ডিসেম্বর সকালে পেঁচারদ্বীপ এলাকা থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণের কথা বলে স্থানীয় ৪ শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেন জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম নামের দুই রোহিঙ্গা। পরে ওই শিক্ষার্থীদের টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের অজ্ঞাত স্থানে জিম্মি করে মোবাইল ফোনে স্বজনদের কাছ থেকে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দাবি করেন তারা।

অপহরণের ঘটনায় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম ও মোহাম্মদ ইব্রাহিম টেকনাফের ২৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। এই দুই রোহিঙ্গা রামুর পেঁচারদ্বীপ এলাকায় বাতিঘর নামে একটি আবাসিক কটেজের কর্মচারি হিসেবে কাজ করতেন। সেই সূত্রে তাদের সঙ্গে অপহৃত ৪ শিক্ষার্থীর বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল।

অপহৃত ৪ শিক্ষার্থী হলেন উখিয়া উপজেলার সোনার পাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণীর ছাত্র জাহেদুল ইসলাম, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ কায়ছার ও মিজানুর রহমান নয়ন। তারা সবাই রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের হিমছড়ির কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়ক লাগোয়া পেঁচারদ্বীপ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

স্বজনরা জানিয়েছেন, মুক্তিপণের টাকার জন্য ওই শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে অপহরণকারিরা। টাকা না দিলে প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফের হ্নীলা স্টেশন এলাকার কয়েকজন ব্যবসায়ীরা জানান, রোহিঙ্গা অপহরণকারীরা মঙ্গলবার রাতে ওই ৪ শিক্ষার্থীদের নিয়ে হ্নীলা স্টেশনের একটি আাবাসিক হোটেলে ছিল। পরে হোটেল থেকে তারা চলে যান।

ওই ৪ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে র‍্যাব, পুলিশ ও আর্মড পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।

টেকনাফ থানার পরিদর্শক (অপারেশন) খোরশেদ আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অপহৃত শিক্ষার্থীদের উদ্ধারে পুলিশের পাশাপাশি এপিবিএন ও র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তাদেরকে উদ্ধারের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। আজ সকালে অপহরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এপিবিএন সদস্যদের হাতে আটক ৩ রোহিঙ্গাকে টেকনাফ থানা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করছে, তাদের কাছ থেকে ঘটনার কোনো ক্লু পাওয়া যায়না কিনা সেটি চেষ্টা করে দেখা হচ্ছে।'