সাতক্ষীরা

কলেজছাত্রকে মারধর ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরার তালায় এক কলেজছাত্রকে অপহরণ করে মারধর ও বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রলীগ ও শ্রমিক লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।

গতকাল রোববার ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন করা হয় উল্লেখ করে তার বাবা আজ সোমবার তালা থানায় একটি মামলা করেছেন।

নির্যাতনের শিকার ওই শিক্ষার্থী তালা সদরের জাতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চলতি বছর জাতপুর টেকনিক্যাল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন।

নির্যাতনের অভিযোগে শিক্ষার্থীর বাবা তালার মাঝিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব (২৫), হরিশচন্দ্রকাটি গ্রামের বাসিন্দা ও উপজেলা শ্রমিক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৌমিত্র চক্রবর্তী (৩২), তালা গার্লস স্কুল এলাকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী জে আর সুমন (২৫), মহান্দি গ্রামের ছাত্রলীগ কর্মী জয় (২৪) ও তালা সদরের বাসিন্দা ছাত্রলীগ কর্মী নাহিদ হাসান উৎসসহ (২৪) অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

তালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল কালাম দ্য ডেইলি স্টারকে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্তরা পলাতক আছেন। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, রোববার দুপুর ১টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নাহিদ হাসান উৎস ফোন করে তালা সরকারি কলেজের সামনে ডেকে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে কলেজের একটি কক্ষে নিয়ে মারধর, মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হবে। পরে তন্ময়কে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করা হয়।

মামলায় বলা হয়, 'নির্যাতনকারীরা আমাদের কাছে ফোন করে ছেলেকে ফিরে পেতে ২ লাখ টাকা নিয়ে কলেজের সামনে যেতে বলে। এ সময় ফোনে ছেলের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। এ খবর জানতে পেরে আমার ভাতিজা ও কয়েকজন আত্মীয়-স্বজন কলেজে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।'

কী কারণে এমন ঘটনা ঘটলো, এমন প্রশ্নের জবাবে শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, 'আমি ধারণা করছি তারা আমার ছেলের নতুন মোটরসাইকেল নিতে চেয়েছিল। সে কারণেই এই কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।'

নির্যাতনের শিকার কলেজ শিক্ষার্থী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নাহিদ হাসান উৎস আমার পূর্ব পরিচিত। সে আমাকে ফোন করে ডেকে নিয়ে হঠাৎ মারপিট শুরু করে। তার সঙ্গে আকিবসহ অন্যরা ছিল। তারা আমার হাতে, পায়ে নির্মমভাবে পেটায়। মাথা ন্যাড়া করে দেয়। পরে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে এবং বাড়িতে ফোন দিয়ে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।'

যোগাযোগ করা হলে তালা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শেখ হুমায়ূন কবীর জানান, এ ধরনের কোনো খবর তিনি জানেন না।

অভিযুক্ত তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ আকিব বলেন, 'পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়নি। ওই ছেলে আমার এক চাচাতো বোনকে "থ্রেট" করেছে। এ জন্য রাগের মাথায় তাকে মারধর করা হয়েছে। তবে ২ লাখ টাকা চাঁদা চাওয়ার কথা ঠিক নয়।'

জানতে চাইলে তালা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিলন রায় বলেন, 'এক ছাত্রকে মারধর করা হয়েছে শুনেছি। খোঁজখবর নিয়ে বিস্তারিত বলতে পারব।'

সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি এস এ আশিকুর রহমান বলেন, 'ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী এমন ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।'