‘কুকুর’ বলায় শিশুসহ ৬ জনকে কামড়ে দিলেন

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর দুমকিতে একই পরিবারের শিশুসহ ৬ জনকে কামড়ে জখম করেছে আরেক পরিবারের সদস্যরা।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম ঝাঁটরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার এ ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জনের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কালাম সর্দার ও সাত্তার শিকদারের মধ্যে জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গতকাল বিকেলে কালাম সর্দার বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় প্রতিবেশী বাবুল হাওলাদারের ছেলে তাকে 'কুকুর' বলে ডাকে। এ ঘটনায় কালাম তার বাড়ির লোকজনকে নিয়ে সাত্তার শিকদার ও তার ভাই আনোয়ার শিকদারের বাড়িতে গিয়ে ৬ জনকে কামড়ে জখম করে।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন- সাত্তার শিকদারের স্ত্রী মাসুদা বেগম (৫০), তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (২০), নাতি রাইয়ান (৬ মাস), ভাতিজা শাকিল (১৪), ভাবী লাভলী (২৭) ও নাতনী তাসমিম (১২)। আহত সবাই দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

আনোয়ার শিকদারের স্ত্রী লাভলী বেগম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পাশের বাড়ির এক ছেলে কালাম সর্দারকে গালি দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হন। তিনি অভিযোগ করেছেন, আমরা নাকি ওই ছেলেকে বলেছি তাকে গালি দিতে। তাই তারা বাড়িতে এসে আমাদের ৬ জনকে কামড়ে আহত করেছেন।'

এ ঘটনায় কালাম সর্দারের পরিবারের ৯ জনের বিরুদ্ধে দুমকি থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযুক্তরা হলেন- মো. কালাম সর্দার (৫০), তার স্ত্রী তাসলিমা বেগম (৪৫), মেয়ে সীমা বেগম (৩০), সুখী বেগম (২০), জামাতা মো. মাইদুল ইসলাম (৩০), ভাই সালাম সরদার (৬০), তার স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫০), মেয়ে মানসুরা বেগম (২২) ও মনি আক্তার (১৫)।

তবে অভিযুক্ত কালাম সর্দারের পরিবারের সদস্যরা কামড় দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

এদিকে, স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মিজান সর্দার বলেন, 'সালাম ও কালামের পরিবারের লোকজন এর আগেও এলাকার আরও দুজনকে কামড়িয়ে জখম করেছে।'

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম বলেন, 'আমরা এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'