কুষ্টিয়ায় সংঘর্ষে নিহত ৪: পাল্টাপাল্টি মামলা, গ্রেপ্তার নেই

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

ঈদের আগের দিন কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ঝাউদিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের ২ পক্ষের সংঘর্ষে ৪ জন নিহতের ঘটনায় ২টি পৃথক মামলা হয়েছে। তবে ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

গত সোমবার ওই ঘটনার পর মঙ্গলবার রাতে বিবদমান ২ পক্ষ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানায় ২টি মামলার আবেদন করে। বুধবার রাতে তা নথিভুক্ত করা হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তারের জের ধরে সোমবার সন্ধ্যায় এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কেরামত আলী, একই ইউনিট আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সদস্য ও ঝাউদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য ফজলুল হক, আব্দুল মজিদ ও মেহেদী-এই ৪ জন এলাকায় প্রভাব তৈরির মাধ্যমে বিভিন্ন পক্ষ তৈরি করে রেখেছেন। যারা বিভিন্ন বিরোধে পক্ষ-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি করেন।

এর আগে ২০১৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর কেরামত ও মেহেদী পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হন।

সর্বশেষ সোমবার ইফতারের আগে কেরামত আলী বিশ্বাসের অনুসারীরা ফজলুল হকের অনুসারীদের সঙ্গে স্থানীয় একটি বাজারে তর্কে জড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে কেরামতের অনুসারীরা ফজলুর অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়।

এ সময় কয়েকজন মিলে রহিম মালিথা নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে।

এ ঘটনা জানাজানি হলে ইফতারের পর কেরামতের লোকজন রহিম হত্যায় জড়িত সন্দেহে মতিয়ারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় মতিয়ার (৪০), লাল্টু (৩০) ও কাশেম (৫০) নিহত হন।

পরে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে উভয় পক্ষের আরও ১৫-২০ জন আহত হন।

এই ঘটনায় দায়ের করা ২ মামলার মধ্যে একটির বাদী নিহত মতিয়ার মণ্ডলের ভাই আশরাফুল। এই মামলায় ঝাউদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কেরামত উল্লাহকে প্রধান আসামি করে মোট ৬৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অন্যদিকে সংঘর্ষে নিহত রহিম মালিথার ছেলে রফিকুল বাদী হয়ে প্রতিপক্ষ আনিস মেম্বারকে প্রধান আসামি করে মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

২ মামলার মামলার বাদীসহ সব আসামিই স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি) খায়রুল আলম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'দোষীদের চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। তবে যেখানেই পালিয়ে থাকুক না কেন, তাদের সবাইকে গ্রেপ্তার করা হবে।'