৫৩ টন চিনি গায়েব

কুষ্টিয়া চিনিকলের উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়া চিনিকলের গুদাম থেকে প্রায় ৫৩ টন চিনি গায়েবের ঘটনার তিন মাসেরও বেশি সময় পর মিলের এক উপ-মহাব্যবস্থাপকসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ বৃহস্পতিবার করা এ মামলার আসামিরা হলেন মিলের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ভাণ্ডার) মো. আল-আমিন, গুদাম রক্ষক ফরিদুল ইসলাম ও শ্রমিক সর্দার বশির উদ্দিন।

দুর্নীতি দমন কমিশন সমন্বিত কার্যালয় কুষ্টিয়ার উপসহকারী পরিচালক নীল কমল পাল কুষ্টিয়ার সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে এ মামলা করেন।

দুদক আইনজীবী আল মুজাহিদ মিঠু দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে মিলের ৫২ দশমিক ৭০০ মেট্রিক টন চিনি আত্মসাৎ করেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৩ লক্ষ ২০ হাজার ১০০ টাকা।

দুদক কার্যালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে একজন তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করবে দুদক।

কুষ্টিয়া চিনিকলের নিজস্ব গুদাম থেকে ওই চিনি গায়েবের ঘটনা প্রথম নজরে আসে গত ৩ জুন। চিনিকলের সাপ্তাহিক বৈঠকে গুদাম রক্ষক ফরিদুল ইসলাম গুদামের চিনির বর্তমান অবস্থা সংক্রান্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করলে চিনির মজুত, বিক্রি, আয় সংক্রান্ত তথ্যে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি ধরা পড়ে।

চিনির মজুত নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা গুদাম পরিদর্শন করেন এবং ৫৩ টন চিনির হিসাবে অসামঞ্জস্যতা খুঁজে পান। চিনির হিসাব মিলিয়ে দেওয়ার জন্য ফরিদুল ইসলাম ৫ জুন পর্যন্ত সময় চেয়ে নেন।

কিন্তু, ওই সময়ের মধ্যে তিনি চিনির হিসাব বুঝিয়ে দিতে ব্যর্থ হন। পরে, তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য কারখানার জিএম (অর্থ) কল্যাণ কুমার দেবনাথকে প্রধান করে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয় এবং চিনিকলের গুদাম থেকে চিনি চুরির বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।

পরে, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শিবনাথ রায়কে প্রধান করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ৭ জুন পাঁচ সদস্যের এ কমিটি কুষ্টিয়া সুগার মিলে এসে তদন্ত করেন।

তদন্ত কমিটি চিনিকলের চিনিসহ উৎপাদিত অন্য পণ্যের বর্তমান মজুত, বিক্রয়, আয় সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখেন। গুদাম ও বিভিন্ন ভাণ্ডারের (স্টোর) দায়িত্বে থাকা বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে তারা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

কমিটির জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে গুদাম থেকে দীর্ঘদিন ধরে ৫৩ টন চিনি চুরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। বলা হয় 'চিনিকলে প্রতিদিনই চিনি বিক্রি হয়। ক্রেতারা মিলের বিক্রয় কেন্দ্রে মূল্য পরিশোধ সাপেক্ষে স্লিপ গ্রহণ করেন। সেই স্লিপ অনুযায়ী গুদাম থেকে চিনি বের করা হয়। মিল গেট থেকে ক্রেতারা চিনি বুঝে নেন। স্লিপে উল্লেখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি চিনি গুদামের বাইরে বের করে আনে একটি চক্রটি।'