কুড়িগ্রামে হাসপাতালের ওষুধ চুরি ও পাচার: ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

নিজস্ব সংবাদদাতা, লালমনিরহাট

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতাল থেকে সরকারি ইনজেকশন চুরি ও পাচারের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

গতকাল রাতে এই তদন্ত কমিটি করা হয় বলে জানান হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ লিংকন।

তিনি বলেন, 'হাসপাতালের মেডিসিন কনসালট্যান্ট ডা. মইনুদ্দিন আহমেদকে তদন্ত কমিটির প্রধান এবং হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পুলক কুমার সরকারকে কমিটির সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।'

বৃহস্পতিবার দুপুরে হাসপাতাল চত্বরে ৩৭০টি সরকারি ইনজেকশনসহ সাহেদা বেগম নামে এক নারীকে আটক করেন স্থানীয় লোকজন। ওই নারী একটি লাগেজ ভর্তি করে এসব সরকারি ইনজেকশন হাসপাতাল থেকে পাচার করে বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। আটকের পর তাকে স্থানীয়রা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. পুলক কুমার সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা করেছেন।

ইনজেকশনসহ আটক সাহেদা বেগম (৩৬) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের টাপুরচর গ্রামের ফজল উদ্দিনের স্ত্রী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে তদন্ত কমিটির এক সদস্য দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হাসপাতাল থেকে ওষুধ চুরি ও পাচারের ঘটনায় হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ জড়িত। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালের এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অপকর্ম করে আসছে। সরকারি ইনজেকশনসহ হাতেনাতে এক নারী আটকের পর থেকে হাসপাতালের ওইসব স্টাফদের অনুপস্থিত থাকতে দেখা যাচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদনে জড়িত সবাইকে অভিযুক্ত করা হবে।'

তদন্ত কমিটির সচিব ডা. পুলক কুমার সরকার জানান, তদন্তের কাজ চলছে। শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো মন্তব্য করতে পারবেন না। তবে হাসপাতাল থেকে ওষুধ চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শহিদুল্লাহ লিংকন ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাসপাতালের ওষুধ চুরি ও পাচারের সঙ্গে যেই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

এ ঘটনায় তদন্ত কমিটির পাশাপাশি পুলিশও তদন্ত করছে বলেও জানান তিনি।