ক্যান্সার রোগী সেজে সমাজসেবা অধিদপ্তরে সাহায্যের আবেদন, বাবা-ছেলে আটক
নোয়াখালীর সমাজসেবা অধিদপ্তরে ক্যান্সার রোগী সেজে ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়ে অর্থ সাহায্য পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বাবা-ছেলে। প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারক বাবা-ছেলেকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।
তারা হলেন-সোনাইমুড়ী উপজেলার জয়াগ ইউনিয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. গিয়াস উদ্দিন (৪৫) ও তার ছেলে মো. ওমর ফারুক (১৭)।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে তাদের সুধারাম মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
জেলা প্রশাসক দেওয়ান মাহবুবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ডিসি বলেন, 'বাবা ও ছেলে ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে ক্যান্সার রোগী সেজে ৫০ হাজার টাকা করে ১ লাখ টাকা সাহায্যের জন্যে সমাজ সেবা অধিদপ্তরে আবেদন করেন। আমি আবেদন যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি। বাপ-ছেলের আবেদন যাচাই করতে গেলে আমার সন্দেহ হয়।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি তাদের বিভিন্নভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সত্য গোপন করে এলোমেলো তথ্য দিতে থাকে। পরে আমি শক্তভাবে ধরলে তারা আমার কাছে প্রতারণার কথা স্বীকার করে।'
এ ঘটনায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সুধারাম মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডিসি দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, 'এসব প্রতারকদের কারণেই প্রকৃত রোগী ও দুস্থরা সরকারি সহযোগিতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আগামীতে প্রতিটি আবেদন আরও ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হবে।'
জানতে চাইলে সমাজসেবা অধিদপ্তর নোয়াখালীর উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম পাটওয়ারী ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে তারা ক্যান্সার রোগী সেজে টাকা আদায় করার চেষ্টা করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা থানায় অভিযোগ দিয়েছি।'
যোগাযোগ করা হলে সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রতারক বাবা-ছেলে থানা হেফাজতে আছেন। এজাহার দাখিল করা হচ্ছে।'
এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান।