ক্যারাম গুটি চুরির অভিযোগে শিক্ষার্থীকে পেটালেন অফিস সহকারী
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় ক্যারাম খেলার গুটি চুরির অভিযোগে এক কলেজশিক্ষার্থীকে নির্মমভাবে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে কলেজের দুই প্রভাষক, পিয়ন ও অফিস সহকারীর বিরুদ্ধে।
আহত শিক্ষার্থী তামজিদ ইসলাম (১৮) নাম বীর মুক্তিযোদ্ধা মোতাহার হোসেন কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে তিনি হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় গতকাল সোমবার রাতে ওই কলেজের অফিস সহকারী ফরিদুল ইসলামসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে হাতীবান্ধা থানায় লিখিত করেছেন তামজিদের বাবা আশরাফ আলী। এ ঘটনায় অন্য অভিযুক্তরা হলেন, কলেজের দুই প্রভাষক ছায়েদ আলী ও তবারক হোসেন এবং কলেজের পিয়ন আবু সাঈদ।
আহত কলেজ শিক্ষার্থী তামজিদ ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গতকাল সোমবার দুপুরে কলেজে ক্যারাম খেলার গুটি চুরির অপবাদে কলেজের অফিস সহকারী ফরিদুল ইসলাম আমাকে ল্যাব রুমে ডেকে নিয়ে যান। ল্যাব রুমে কলেজের দুই শিক্ষক ও পিয়ন উপস্থিত ছিলেন। আমি ল্যাবে ঢুকতেই দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুজন স্যারের উপস্থিতিতে আমাকে কাঠের লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন কলেজের অফিস সহকারী ও পিওন।'
'আমার চিৎকার শুনে সহপাঠিরা ছুটে এসে আমাকে উদ্ধার করে এবং হাসপাতালে ভর্তি করায়। আমি কলেজের ক্যারাম খেলার গুটি চুরি করিনি। কে বা কারা চুরি করেছে সেটাও আমি জানি না। আমাকে চুরির মিথ্যা অপবাদে দিয়ে মারধর করা হয়েছে,' তিনি বলেন।
আহত কলেজ শিক্ষার্থীর বাবা আশরাফ আলী দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমার ছেলেকে অমানবিকভাবে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। আমি থানায় অভিযোগ করেছি। আমার ছেলের সারা শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন ভেসে উঠেছে। সে এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।'
জানতে চাইলে কলেজের অফিস সহকারী ফরিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'ক্যারাম খেলার গুটি চুরির কথা জিজ্ঞাস করতেই তামজিদ ইসলাম রাগান্বিত হয়ে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতে শুরু করে। আমাকে তামজিদ ধাক্কাধাক্কি করতে থাকে। শিক্ষকের নির্দেশে তাকে ল্যাবে এনে শাসন করা হয়েছে। তাকে পেটানো হয়নি।'
যোগাযোগ করা হলে কলেজের অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি এখন বাইরে আছি। তাই এ বিষয়ে কিছুই জানি না। আমি কলেজে ফিরে বিস্তারিত জেনে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।'
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এরশাদুল আলম অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।