ক্রিকেট খেলায় দ্বন্দ্বের জেরে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষ, আহত ৩৩

নিজস্ব সংবাদদাতা, ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩৩ জন আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি বাড়িতে অগ্নি সংযোগ, ৩টি বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।

সেসময় পুলিশ ১০টি শর্টগানের গুলি ছুড়ে, ১০টি কাঁদুনে গ্যাসের সেল ও দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের বালিয়াচরা ও সোনাখোলা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ওই এলাকায় বর্তমানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ১৫ দিন আগে দুই গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দুই গ্রামের তরুণদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এর পরে গত এক সপ্তাহে সোনাখোলা গ্রামের ছেলেদের হাতে হামলার শিকার হন বালিয়াচরা গ্রামের কলেজ ছাত্র আল-আমিন (২২) ও মিনহাজ শেখ (২২)। এর পর থেকেই দুই গ্রামের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে।

এলাকাবাসী সুত্রে আরও জানা যায়, বালিয়াচাড়া গ্রামের লোকদের উপজেলা সদরে আসতে হলে সোনাখোলা গ্রামের উপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ নিয়ে গত কয়েক যুগ ধরে সোনাখোলার সঙ্গে বালিয়াচড়া গ্রামের বিরোধ চলে আসছিল।

এর ঘটনার জেরে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে দুই গ্রামের কয়েকশ বাসিন্দা ঢাল, সড়কি, রামদাসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র ও ইট নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সংঘর্ষে কমপক্ষে ৩০ জন আহত হয়েছেন।

সংঘর্ষের সময় বালিয়াচরা গ্রামের বাসিন্দা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন মোল্লার বাড়িসহ আকাশ মুন্সী, হান্নান শেখের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় বালিয়াচরা গ্রামের হাবুল মাতুব্বর ও গফফার শেখের বাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। এছাড়ার সংঘর্ষ চলাকালে দুইটি পাটকাঠির মাচায় আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

বালিয়াচরার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেনের ছোট ভাই এটিএম ফরহাদ নান্নু বলেন, 'আমাদের বাড়িতে সোনাখোলার লোকজন এসে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করেছে।' 

ভাঙ্গা দমকল বাহিনীর লিডার খোকন জমাদার বলেন, 'সংঘর্ষের ঘটনা থেকে ঐ এলাকায় অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটে। আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে দেখি এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণ করেছে। এ সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ৩৩ জন আহত হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।'

আহতদের বেশিরভাগই ইটের আঘাতে আহত হলেও গ্রেপ্তারের ভয়ে কোনো সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাননি।

ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা সহকারী আক্তারুজ্জামান জানান, সংঘর্ষে আহত ৩ জন ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ জানান, সংঘর্ষের খর শুনে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০টি শর্টগানের গুলি ছুড়ে, ১০টি কাঁদুনে গ্যাসের সেল ও দুটি সাউন্ড গ্রেনেড ফাঁটিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

তিনি বলেন, 'এ ব্যাপারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংঘর্ষে বাড়িঘর ভাংচুর ও অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটেছে।  দুই গ্রামে থানা পুলিশের পাশাপাশি ফরিদপুর জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে।'