গাড়ির সিলিন্ডারে ৯১ হাজার ইয়াবা, আটক ১
নীলফামারীতে অভিযান চালিয়ে একটি টয়োটা গাড়ির সিলিন্ডার থেকে ৯১ হাজার ৮৫ পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নীলফামারী সদর থানার বড় বাজার ট্রাফিক মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের একটি দল।
গ্রেফতার মাদক পাচারকারীর নাম ইমরান হোসেন (৪২)। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জের দাড়িপাতন গ্রামের রফিক উদ্দিনের ছেলে।
অভিযানে মাদক পাচারের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি ও ৭ হাজার ২০০ টাকা জব্দ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে জব্দ করা ইয়াবার এটি অন্যতম বড় চালান এটি বলে জানিয়েছেন এটিইউ।
অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার এম এম হাসানুল জাহিদ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, এটিইউ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে শুক্রবার রাতে নীলফামারীতে মাদকের চোরাচালান হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইমরান হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি জানান, গ্রেফতার ইমরান হোসেন গত ২১ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাবরাং এলাকার জুবায়ের জুয়েলের (৩০) কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করতে যায়। জোবায়ের জুয়েল টেকনাফের সাবরাং এলাকার চিহ্নিত মাদক সম্রাট। নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা হয়ে নীলফামারী জেলাসহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় তার ইয়াবা পাচারের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক আছে।
বগুড়া সদর থানার ফুলবাড়ি এলাকার বিপুল (৩৬) ও নীলফামারীর সুজন (৩৫) নামে দুই জনসহ তাদের সহযোগীরা মিলে বগুড়াসহ দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে যুক্ত বলেও জানান তিনি।
হাসানুল জাহিদ আরও বলেন, তাদের নির্দেশে গ্রেপ্তার ইমরান হোসেন ইয়াবার চালান কক্সবাজারের জুবায়ের জুয়েল নামে একজনের কাছ থেকে এনে তাদের সরবরাহ করত। এবারের চালানটি নিয়ে সে গতকাল শুক্রবারই কক্সবাজার থেকে রওনা করেন।
এটিইউ সূত্রে জানা গেছে, জুবায়ের জুয়েল গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে ইয়াবা প্যাকেট লুকিয়ে পাচার করে। এভাবে এর আগেও বেশ কয়েকটি ইয়াবা চালান টেকনাফ-চট্টগ্রাম-গাজীপুর-সিরাজগঞ্জ হয়ে বগুড়া ও নীলফামারীতে সুজন ও বিপুলের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন ইমরান।
পুলিশ সুপার হাসানুল জাহিদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তারা ৪ জন ও অন্যান্য কয়েকজনের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে এইভাবে টেকনাফ থেকে ইয়াবা এনে নীলফামারী, বগুড়া ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে পাচার করে আসছিল।'
এটিইউ জানিয়েছে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফের সাবরাংয়ের জুবায়ের জুয়েল, বগুড়ার ফুলবাড়ি এলাকার মো. বিপুল ও নীলফামারীর সদর থানার সুজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং একাধিক মাদক মামলার আসামি। গ্রেফতার ইমরান হোসেন ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় শনিবার নীলফামারী সদর থানায় মামলা হয়েছে।