গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন, মারা গেলেন দগ্ধ তামান্না

নিজস্ব সংবাদদাতা, সাতক্ষীরা

পাঁচ দিন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে চলে গেলেন পেট্রলের আগুনে দগ্ধ তামান্না খাতুন (১৮)। 

গতরাত ১২টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তামান্না।

তামন্নার ভাই নাইমুল রহমান ও পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেন।

গত ৫ মে তামান্নার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন দিয়ে হত্যার চেষ্টা করে আসামি সাদ্দাম হোসেন।

তামান্নার ভাই নাইমুর রহমান জানান, তাদের বাড়ি তালা উপজেলার কাশীপুরে। গত দুই মাস আগে সাতক্ষীরা শহরের ফারহাদ হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় তামান্নার। ঈদের পরদিন গত ৪ মে তার বোন ও ভগ্নিপতি তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। ৫ মে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশে কপোতাক্ষ নদের ধারে বেড়াতে যান তারা। রাত ৮টার দিকে কয়েকজন তার বোনের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। 

আশেপাশের লোকজন তামান্নাকে প্রথমে খুলনা আড়াইশ বেড হাসপাতালে এবং পরে সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয় ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

নাইমুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, অভিযুক্ত সাদ্দাম হোসেনের সাথে তামান্নার পূর্ব পরিচয় ছিল। তবে বাবা-মা গত দুই মাস আগে ফারহাদ হোসেনের সঙ্গে  বিয়ে দেন তামান্নার।  এ ছাড়া জমি নিয়ে বিরোধ আছে প্রতিবেশীদের সঙ্গে। এ দুই পক্ষ মিলে তার বোন ও ভগ্নিপতিকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক লিটন হোসেন জানান, চিকিৎসেকরা জানিয়েছেন তামান্নার শরীরের ৪২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। তার স্বামী ফারহাদ হোসেনেরও  ডান হাতের কিছুটা অংশ পুড়ে গেছে। 

তিনি আরও জানান, ৬ মে তিনি ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে গিয়ে  কথা বলেছিলেন তামান্নার সঙ্গে। তার বর্ণনার সঙ্গে মামলার এজাহারের মিল রয়েছে। 

পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার রায় জানান, ৬ মে বিকেলে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানায়  তামান্নার বাবা আবদুল হক বাদি হয়ে সাদ্দাম হোসেন, প্রতিবেশী আব্দুর  রউফের ছেলে ফিরোজ, মেয়ের জামাই আবদুল হামিদ ও সালাউদ্দিন, আত্মীয় রাজু আহমেদ ও তুহিন হোসেনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। ওই রাতে মামলার ২নং আসামি তুহিন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬ মে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।  ৭ মে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম হোসেনকে। তার শরীর পেট্রলের আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাকেও ঢাকার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।  অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, তামান্নার মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।