ঘটনাস্থলে না থেকেও ১৮ মাস বন্দি, আমরা মুক্তি চাই: ৩ পুলিশ সদস্যের স্বজন
সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা হবে দুপুরে। আজ সোমবার সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছেন আসামিদের স্বজনরা।
তারা বলেন, সিনহা হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত ছিল অবশ্যই তাদের বিচার হওয়ার উচিত। তবে নির্দোষ সবাই যেন মুক্তি পান।
সিনহা হত্যা মামলার আসামি পুলিশের বরখাস্ত সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) লিটন মিয়ার স্ত্রী হ্যাপী আক্তার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার ৫ থেকে ১০ মিনিট পরে ফাঁড়িতে মুন্সির কাছে ফোন করেন লিয়াকত স্যার। আরও পুলিশ সদস্য আসতে হবে এখানে ঝামেলা হয়েছে। তখন ফাঁড়ির মুন্সি আমার স্বামীকে বলেন, আপনাকে এপিবিএন চেকপোস্টে যেতে হবে। তখন আমার স্বামী ৩ জন কনস্টেবল নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ঘটনাস্থলে রওনা দেন। অর্ধেক পথ যাওয়ার পরে দেখতে পান অনেক মানুষের ভিড়ের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে, আর সামনে এগুনো যাচ্ছে না। তখন তারা অটোরিকশা ছেড়ে পায়ে হেঁটে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। গিয়ে দেখেন একটি লাশ পড়ে আছে।'
'সিনিয়র অফিসার লিয়াকত স্যার ও প্রদীপ স্যার বলেন, তোমরা এটা ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে নিয়ে যাও। আমার স্বামী, ৩ জন কনস্টেবল সাফানুল করিম, আব্দুল্লাহ আল মামুন ও কামাল হোসেন—এই ৪ জন দায়িত্ব নিয়ে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে যান। এটাই তাদের অপরাধ, কেন তারা ডিউটি পালন করতে গেল। সেই অপরাধে তারা ১৮ মাস কারাবন্দি হয়ে আছে। আমি চাই, যে প্রকৃত অপরাধী; লিয়াকত স্যার নিজেই স্বীকার করেছেন তার গুলিতে মৃত্যু হয়েছে। যে প্রকৃত অপরাধী, তার সাজা হোক আর নির্দোষ মানুষগুলো যেন বেকসুর খালাস পায়,' বলেন হ্যাপী।
তিনি আরও বলেন, 'আমার স্বামী নির্দোষ। তিনি আধা ঘণ্টা পরে গেছেন, ঘটনা দেখেননি, কে গুলি করেছে-কেন গুলি করেছে সেটাও দেখেননি। বড় অফিসারের নির্দেশে ডিউটি পালন করেছেন। সেটা তার অপরাধ হতে পারে না। যদি সেটা অপরাধ হয়ে থাকে, কোনো পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালনে যাবে না। আমার পরিবার আজ রাস্তায় দাঁড়িয়েছে। আমি আর্থিকভাবে-সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে গেছি। মানুষের কাছে...সিনহা হত্যা মামলা...আসলে এটা খুব জঘন্য একটা কাজ, আমরাও চাই সিনহা সাহেবের প্রকৃত হত্যাকারীদের শাস্তি হোক।'
কনস্টেবল কামাল হোসেনের স্ত্রী লিজামণি বলেন, 'আমার স্বামী কোনো অপরাধ করেনি। আমার স্বামী যখন বাসা থেকে যাচ্ছে তখন আমি বাসায় ছিলাম। আমি তখন অন্তঃস্বত্তা, উনি আমাকে না দেখে (পাশে না থেকে) ডিউটি পালন করতে গেছেন। উনি আধা ঘণ্টা পরে গেছেন। ঘটনাস্থলে ছিলেনও না। স্যারের নির্দেশে উনি ডিউটি পালন করতে গেছেন। আমার বাচ্চাকে নিয়ে ২ বছর অনেক কষ্ট পাচ্ছি। আমি চাই আমার স্বামী খালাস হোক।'
কনস্টেবল মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাবা মো. আবুল হোসেন বলেন, 'মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাও বলেছেন, লিটন সাহেব ৩ জন কনস্টেবল নিয়ে ঘটনার ৫ থেকে ১০ মিনিট পরে পৌঁছান। তাহলে তো তারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তারা দোষী হবেন কেন? একজন কনস্টেবল যদি স্যারের কথা অমান্য করে তাহলে তার সাজা হবে। স্যারের কথা মানতে গিয়ে তারা ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নিয়ে গেছে, এটা কি তাদের অপরাধ? এটা অপরাধ হলে আমি মনে করি, যারা কনস্টেবল আছেন, তারা ভবিষ্যতে সিনিয়রদের কথা মানবেন কি না আমার জানা নেই। আমি চাই, যারা দোষী তাদের সাজা হোক। তাদের সাজা দেওয়া হোক। যারা নির্দোষ তাদের খালাস দেওয়া হোক।'
গত ১২ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেছিলেন।