ঘরে ঢুকে মারধর করে পুলিশ, অপমানে আত্মহত্যা চেষ্টা গৃহবধূর

নিজস্ব সংবাদদাতা, কুষ্টিয়া

ঘরে ঢুকে গৃহবধূ ও তার শাশুড়িকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা মডেল থানার দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় গৃহবধূ আত্মহত্যার চেষ্টা করলে আহত অবস্থায় তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ বিষয়ে জেলার সহকারী পুলিশ সুপার (দামুড়হুদা সার্কেল) মুন্না বিশ্বাস বলেন, এক নারী কনস্টেবল তাদের মারধর করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ জানান, গত বছর ৪ জুলাইয়ে দামুড়হুদার জিহাদের (২২) সঙ্গে ঢাকার একটি কাজি অফিসে তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় তার মা উপস্থিত ছিলেন। বিয়ের পর থেকেই তিনি শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। কয়েক দিন আগে তাকে আটকে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগে দামুড়হুদা মডেল থানায় অভিযোগ করেন তার নানী।

গৃহবধূ বলেন, মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে তিনি তার শাশুড়ির সঙ্গে ঘরে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় দামুড়হুদা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজিব, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইখলাস দুই জন নারী পুলিশ সদস্যসহ সেখানে হাজির হন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এক নারী ও এক পুরুষ পুলিশ সদস্য তাদের মারধর শুরু করেন। এসময় লোকজন এগিয়ে এলে পুলিশ সদস্যরা ঘর থেকে বাইরে গিয়ে অবস্থান নেন। এসময় তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।

সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহত গৃহবধূ শঙ্কামুক্ত কিনা এখনই বলা যাচ্ছে না। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস ওয়াহিদ জানান, গৃহবধূর নানীর অভিযোগ ছিল নাবালিকা মেয়ের বিয়ে হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করতে গিয়েছিল। এ সময় ওই বাড়ির লোকজন উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করে।

তবে তিনি মারামারির অভিযোগ অস্বীকার করেন।