চট্টগ্রামে র‌্যাব হেফাজতে আসামির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব-৭) হাতে আটক হওয়ার পর 'অসুস্থ হয়ে' চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬০ বছরের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

র‍্যাব জানায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে নগরীর পাচলাইশে শেভরন ক্লিনিক্যাল প্রাইভেটের সামনে থেকে মো. নজরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। তার বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ঘাটবেক এলাকায়।

র‍্যাবের দাবি, নজরুল হৃদরোগ ও বার্ধক্যজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন।

এ ঘটনায় পাঁচলাইশ থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাব-৭ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নজরুল ২০১২ সালে রাঙ্গুনিয়া থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। আদালত তার বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছিলেন।'

তবে তিনি কোন হত্যা মামলার আসামি ছিলেন সে বিষয়ে জানানো হয়নি। 

'র‌্যাব তাকে তার স্ত্রীসহ শেভরনের সামনে গ্রেপ্তার করার পর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুকে ব্যথার কথা জানালে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি সেখানে মারা যান,' বলেন ইউসুফ।

তিনি আরও জানান, নজরুলের পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছে, নজরুল ডায়াবেটিস ও হৃদরোগে ভুগছিলেন। 

চমেক হাসপাতালে নজরুলের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (এসি) মিল্টন বিশ্বাস।  

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি নজরুলের ছেলে ও ভাগ্নের উপস্থিতিতে লাশ পরীক্ষা করেছি। শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা বা আঘাতের চিহ্ন ছিল না। পরিবারের সদস্যরা আমাকে বলেছিল যে তার পুরনো কিছু শারীরিক জটিলতা ছিল।'

'তাদের উপস্থিতিতেই পরে লাশ মর্গে পাঠানো হয়,' বলেন তিনি। 

নজরুলের স্ত্রী ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন 'আমার স্বামী রাঙামাটিতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলার ছিল। তাকে আটক করার সময় আমি তার সঙ্গে ছিলাম।'

তিনি আরও বলেন, 'আমি একা, আমার পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই। আমি বেশি কিছু বলতে চাই না। তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছেন।'

তার নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন 'আমার পরিবারের সদস্যরা আমাকে নাম প্রকাশ করতে নিষেধ করেছে।'

র‌্যাবের সিও বলেন, 'পরিবারের মনোনীত চিকিৎসককে দিয়েই মর্গে নজরুলের ময়নাতদন্ত করার পর বুধবার দুপুরে মরদেহ তার স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।'

রাঙামাটি বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আইনজীবী সাইফুল ইসলাম বলেন, নজরুল ইসলাম ২০০৩ সালে রাঙামাটি জেলা বিএনপির কমিটির সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি রাজনীতি ছেড়ে ব্যবসা শুরু করেন।