স্ত্রীকে ‘আত্নহত্যায় প্ররোচনা’র অভিযোগে এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

স্ত্রীকে আত্নহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে চট্টগ্রামের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স (আরআরএফ) এর এক উপ-পুলিশ পরিদর্শকশহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে চট্টগ্রামের হালিশহর থানায়।

মামলা দায়ের পর থেকে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা মিজানুর রহমান পলাতক আছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

এদিকে স্ত্রীকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ এনে নিহত ফাতেমা আক্তার কলির পরিবার ও স্বজনেরা রোববার সকাল ১১টায় নোয়াখালী প্রেসক্লাব চত্ত্বরে এ ঘটনার বিচারের দাবিতে মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন।

ফাতেমা আক্তার কলির পিতা আহছান উল্যাহ বাদী হয়ে মিজানুর রহমান, তার মা, ভাই এবং বন্ধুসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন বলে জানিয়েছে হালিশহর থানা পুলিশ।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে সুধারাম থানার বিনোদপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে এসআই মো. মিজানুর রহমানের সঙ্গে ফাতেমা আক্তার কলির বিয়ে হয়। তাদের একটি সাত বছরের মেয়ে রয়েছে। চট্টগ্রামের হালিশহরের শান্তিবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় তারা থাকতেন। মামলায় বাদী তার মেয়ের গলায় হাতে আঘাতের চিহ্নের কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন নির্যাতন করে হত্যা করা হয়ে এবং পরে আত্নহত্যার নাটক সাজানো হয়।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপির) উপ পুলিশ কমিশনার (পশ্চিম) আবদুল ওয়ারিশ জানিয়েছেন, গত ২৫ মার্চ কলিকে তার স্বামী নিজেই আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে বাসায় ফাঁস খেয়েছেন বলে তিনি চিকিৎসকদের জানান। পরে হালিশহর থানা পুলিশ খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করে পোষ্ট মর্টেম এর জন্য পাঠায়।

'এস আই মিজান বর্তমানে পলাতক আছেন। আমরা বিষয়টি তার ইউনিট প্রধানকে জানিয়েছি। প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি এই দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য কলহ ছিল আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি,' বলেন তিনি।

নোয়াখালীতে মানববন্ধনে স্বজনেরা অভিযোগ করেন, পরকীয়ার জের ধরে স্ত্রীকে মারধর করলে সে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। তাদের অভিযোগ, নিহতের গলায় এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে যাতে বোঝা যায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ।

তবে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল ওয়ারিশ বলেন, 'প্রাথমিকভাবে তাদের মেয়ে পুলিশকে বলেছেন তার মা ফাঁস খেয়েছে। তবে পুলিশ বাসার দরজা ভেংগে উদ্ধার বা কিভাবে উদ্ধার হয়েছে তার বিস্তারিত জানতে পারে নি। ঘটনার পর মিজান তার স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যান। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা সেটি ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে বলা যাবে।'

চট্টগ্রাম আরআরএফ এর কমান্ডেন্ট এম এ মাসুদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'পুলিশ আমাদেরকে বিষয়টি জানিয়েছে মৌখিকভাবে। মিজান বর্তমানে পলাতক আছেন। আমরা তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।'