চাঁদাবাজির মামলায় ফরিদপুরের শীর্ষ ব্যবসায়ী সিদ্দিক গ্রেপ্তার
ফরিদপুরে আলোচিত ২ ভাই বরকত-রুবেলের সহযোগী ও ফরিদপুরের শীর্ষস্থানীয় এক ব্যবসায়ী নেতাকে চাঁদাবাজির মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার মো. সিদ্দিকুর রহমান (৪০) ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর মহল্লার বাসিন্দা। তিনি ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাস্ট্রিজের পরিচালক মণ্ডলীর সভাপতি।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে ডিএমপির সহযোগিতায় ঢাকার ধানমন্ডির ১১ নম্বর সড়কের ৮৫/এ নম্বর ভাড়া বাসা থেকে সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশের একটি দল। গ্রেপ্তারের পর সিদ্দিককে সরাসরি ফরিদপুর নিয়ে আসা হয়।
আজ শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্দিকের গ্রেপ্তারের তথ্য জানান ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা।
লিখিত বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল পাশা বলেন, 'গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি চাঁদাবাজ, বরকত, রুবেলের অন্যতম সহযোগী মো. সিদ্দিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।'
তিনি আরও বলেন, 'তার (সিদ্দিক) বিরুদ্ধে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় ৪টি মামলা আছে। এর মধ্যে ৩টি মামলা চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে। অপর মামলাটি হত্যা মামলা। এরমধ্যে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত ৩টি মামলায় তার নামে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। হত্যা মামলাটি তদন্তাধীন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আরও ৪টি সিআর মামলা আছে।'
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সুমন রঞ্জন সরকার বলেন, 'মো. সিদ্দিকুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ফরিদপুর শহরে বিভিন্ন অস্ত্রধারী বাহিনী গঠন করে টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ অফিস, বিভিন্ন হাট বাজার ইজারা, বালু মহাল নিয়ন্ত্রণ, ভূমি দখল, বাসস্ট্যান্ড ও সিএন্ডবি ঘাট দখলসহ বিভিন্ন সরকারি অফিসে ত্রাস সৃষ্টি করে জোরপূর্বক টেন্ডার ছিনতাই করে অঢেল টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন।'
ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, 'সিদ্দিকের বিরুদ্ধে গত বৃহস্পতিবার রাতে কোতয়ালী থানায় চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা হয়। এ মামলার বাদী ফরিদপুর সদরের চারমাধবদিয়া এলাকার লুৎফর রহমান ওরফে নান্নু মিয়া। ওই মামলায় সিদ্দিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে শুক্রবার বিকেলে জেলার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।'
সিদ্দিকের ভাই ফরিদপুর পৌরসভার কাউন্সিলর মো. জলিল বলেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশ ছিল কোর্টের ওয়ারেন্ট ছাড়া সিদ্দিকুর রহমানকে কোনো মামলায় গ্রেপ্তার কিংবা হয়রানি করা যাবে না।'
তিনি আরও বলেন, 'হাইকোর্টের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সিদ্দিকুর রহমানের নামে নতুন মামলা দেখিয়ে এবং কোর্টের কোনো ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তার করেছে ফরিদপুরের পুলিশ।'
আগামী ১৩ ডিসেম্বর ফরিদপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টিজের তিন বছর মেয়াদী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ নির্বাচনে ১৬ সদস্য বিশিষ্ট একটি পরিচালনা কমিটি নির্বাচিত হবে। ওই নির্বাচনে মোট ৩৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বর্তমান চেম্বারের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
উল্লেখ, ২০২০ সালের ৭ জুন রাতে ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়। ওই দিনই গ্রেপ্তার করা হয় আলোচিত দুই ভাই রুবেল ও বরকতকে। এর পর গ্রেপ্তার হন আরেক আলোচিত ব্যক্তি জেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক এ এইচ এম ফোয়াদকে। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে গ্রেপ্তার হন সিদ্দিকুর রহমান।