চুয়াডাঙ্গায় সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম, ছাত্রলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ৩
চুয়াডাঙ্গায় এক সাংবাদিককে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে এক ছাত্রলীগ নেতাসহ তিন জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার গ্রেপ্তারকৃতদের চুয়াডাঙা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গতকাল সোমবার রাত ১০টার দিকে শহরের ইমার্জেন্সি রোড এলাকায় স্থানীয় সাংবাদিক সোহেল রানা ডালিমের (৩৬)। তিনি স্থানীয় দৈনিক সময়ের সমীকরণের নিজস্ব প্রতিবেদক ও জাতীয় দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের জেলা প্রতিনিধি।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রাজু আহমেদ এবং জান্নাত হোসেন ও আল মোমিন নামের ছাত্রলীগের অপর দুই কর্মী।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান এসব তথ্য দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল রাতে শহরের ইমার্জেন্সি রোড দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পত্রিকা অফিসের দিকে যাচ্ছিলেন সাংবাদিক ডালিম। এ সময় তার সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে তার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। এতে সামনের মোটরসাইকেলে থাকা রাজু ও তার আশেপাশের মোটরসাইকেলে থাকা তার কয়েকজন সহযোগী ডালিমকে ঘিরে ধরে এবং তার মোটরসাইকেলের চাবি কেড়ে নিয়ে বেধড়ক কিল ঘুষি দিতে থাকে। এক পর্যায়ে তাকে সরকার বিরোধী সাংবাদিক আখ্যা দিয়ে ক্ষুর দিয়ে আঘাত করা হয়।
রক্তাক্ত অবস্থায় ডালিম মোটরসাইকেল ফেলে চুয়াডাঙা সদর হাসপাতালের দিকে ছুটতে থাকেন। তাকে তাড়া করে ছাত্রলীগ ক্যাডাররা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে যায় এবং সেখানেও ডালিমকে আবারও চাকু দিয়ে বুকে ও পিঠে আঘাত করা হয়।
খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক ডালিম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ছাত্রলীগ নেতা রাজু বলেছে, আমার মতো সাংবাদিক মেরে দিলে দেশের কোনো ক্ষতি নেই।'
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাকিল আরসালান বলেন, 'ধারালো অস্ত্রের আঘাতে সাংবাদিক ডালিমের পিঠ, বুক ও হাতে গভীর ক্ষত হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণও হয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, তবে তিনি আশঙ্কামুক্ত নন।'
এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান বলেন, 'ঘটনার পর অভিযান চালিয়ে রাজু আহমেদকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আজ মামলা করা হলে আরও দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। হামলার সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।'
সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল আমিন, দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফাইজার চৌধুরী তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।