সিলেট

‘ছোটমনি নিবাসে’ বালিশ চাপা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে আয়া

নিজস্ব সংবাদদাতা, সিলেট

সিলেটের বাগবাড়ি এলাকার সরকারি এতিমখানা 'ছোটমনি নিবাসে' গত ২৩ জুলাই সকালে দুই মাস ১১ দিন বয়সের শিশু নাবিল আহমদকে দায়িত্বরত আয়া মাটিতে আছড়ে ফেলে ও বালিশ চাপা দিয়ে হত্যা করেছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযুক্ত আয়া সুলতানা ফেরদৌসীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। এছাড়া, আজ শুক্রবার রাতে সুলতানা ফেরদৌসীর নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে।

শিশুটির মৃত্যুর পর একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ।

সিলেট কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আবু ফরহাদ আজ শুক্রবার দ্য ডেইলি স্টারকে এ সব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওসি এস এম আবু ফরহাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, '২২ জুলাই দিবাগত রাতে শিশুরা ঘুমিয়ে পড়ার পর মাঝরাতে ওই শিশুটির ঘুম ভেঙে গেলে সে কান্নাকাটি করে। তখন দায়িত্বরত আয়া সুলতানা বিরক্ত হয়ে শিশুটিকে মাটিতে আছড়ে ফেলে। এতে শিশুটি বিছানার স্টিলের স্ট্যান্ডের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর ওই আয়া বালিশ চাপা দিয়ে শিশুটিকে হত্যা করে।'

ওই ঘটনার পর সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। পরে, শিশুটির ময়নাতদন্ত করা হয় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

তদন্তে নেমে মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা 'ছোটমনি নিবাসের' সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে। এসব পর্যালোচনায় এ মৃত্যুর পেছনে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি উঠে আসে বলে জানান ওসি এস এম আবু ফরহাদ।

তিনি বলেন, 'পরে প্রশাসনিক ও পুলিশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বৃহস্পতিবার রাতে ওই আয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করি। সমাজসেবা অধিদপ্তর হত্যা মামলা না করায়, পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে এবং সুলতানা ফেরদৌসীকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।'

এ ঘটনার বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সিলেটের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাস দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ঘটনার পরপরই দায়িত্বরত ওই আয়াকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয় এবং একটি বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। পুলিশকে জানিয়ে আমরা অপমৃত্যুর মামলা করি এবং পুলিশের তদন্তে সব ধরণের সহযোগিতা করা হয়।'

তিনি বলেন, 'সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ ঘটনার সত্যতা জানতে পেরেছ এবং এ ঘটনায় আর কেউ কোনওভাবে জড়িত কি না, তা পুলিশ তদন্ত করে দেখবে। আমরা ইতিমধ্যে অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে লিখিতভাবে বিষয়টি জানিয়েছি।'

'এর সঙ্গে জড়িত ওই আয়ার বিষয়ে অধিদপ্তর বিভাগীয় সিদ্ধান্ত নেবে,' বলেন তিনি।