জাপা নেতা করিমউদ্দিনের ছেলের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হাইকোর্টে বহাল
আজ বুধবার হাইকোর্ট জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য করিমউদ্দিন ভরসার ছেলে কবিরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। ২০০৯ সালে ছোট ভাই খায়রুল ইসলাম ভরসাকে হত্যা করার অভিযোগে কবিরুলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
এই মামলার ডেথ রেফারেন্সের শুনানির পর বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
যদি নিম্ন আদালত কোনো ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়, তাহলে হাইকোর্ট সে রায় নিরীক্ষা করার উদ্দেশ্যে আবারো শুনানির আয়োজন করেন এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শোনার পর রায় বহাল রাখেন অথবা বাতিল করেন।
নিম্ন আদালত কবিরুলের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর নিয়ম ফৌজদারি দণ্ডবিধি অনুযায়ী মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়।
আসামিপক্ষের (কবিরুলের) রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হাইকোর্ট সকল তথ্যপ্রমাণ বিবেচনা করে নিশ্চিত হয়েছে, বিচার আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ নির্ভুল ছিল, যার ভিত্তিতে পলাতক আসামী কবিরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখেছেন।
তিনি জানান, যদি কবিরুল সংশ্লিষ্ট নিম্ন আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং হাইকোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের কাছে আপিল করেন, তাহলে সেই আপিলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ স্থগিত থাকবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৯ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় খায়রুল ইসলাম ভরসাকে তার ভাই কবিরুল ইসলাম গুলি করে হত্যা করেন। দুই ভাইয়ের মালিকানাধীন একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিস ও পরিবারের সদস্যরা জানান, আলি'স সেন্টার দালানের ৬ তলায় অবস্থিত 'নিউ এজ টোব্যাকোর' কার্যালয়ে কবিরুল ইসলাম তার ছোট ভাই খায়রুলের ওপর এলোপাতারি গুলিবর্ষণ করেন। পরবর্তীতে, এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।
২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল ঢাকার একটি আদালত পলাতক আসামী কবিরুল ইসলামকে তার ভাই খায়রুলকে হত্যার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান ডেথ রেফারেন্স শুনানিতে অংশ নেন।