টাকা না পেয়ে ড্রেজার মেশিনে আগুন দেওয়ার অভিযোগে এসআই অবরুদ্ধ

এস দিলীপ রায়

বালু তোলার একটি ড্রেজার মেশিনে আগুন দেওয়ার অভিযোগে কুড়িগ্রামে পুলিশের এক উপপরিদর্শককে ঘণ্টাব্যাপি অবরুদ্ধ করে রাখেন বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি মণ্ডল পাড়ায় পুলিশ উপপরিদর্শক (এসআই) শাহজালাল উদ্দিনকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে।

পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির সহায়তায় পুলিশ কর্মকর্তাকে মুক্ত করে থানায় পাঠানো হয়।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সহিদুল ইসলাম নামের একজন ড্রেজার মালিক কয়েক মাস ধরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি থেকে বালু তুলে দামাল গ্রামের একটি খাল ভরাট করছিলেন। কচাকাটা থানার এসআই শাহজালাল উদ্দিন ওই ড্রেজার মালিকের কাছ থেকে প্রতিমাসে পাঁচ হাজার টাকা করে নিতেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় ড্রেজার মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেন।
এ বিষয়ে ড্রেজার মালিক সহিদুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'তিন মাস ধরে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তুলছি। গত ২৮ জুলাই এসআই শাহজালালকে পাঁচ হাজার টাকা দিয়েছি। চলতি আগস্ট মাসেও টাকা চেয়েছেন। আজ মঙ্গলবার বিকেলে তার সঙ্গে দেখা করে আরও টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিনি দুপুরে এসে টাকার জন্য তাগাদা দিতে থাকেন। তখনই টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ড্রেজার মেশিনে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে এলাকাবাসীও বিক্ষুব্ধ হয়ে এসআই শাহজালালকে ঘণ্টাব্যাপী অবরুদ্ধ করে রাখেন।'
শাহ আলম নামে আরেকজন ড্রেজার মালিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বালু উত্তোলনের জন্য এসআই শাহজালালকে প্রতি মাসে ড্রেজার মেশিন প্রতি পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হয়। চুক্তি অনুযায়ী টাকা না পেলে তিনি ড্রেজার মেশিনের বিরুদ্ধে অভিযান চালান। ড্রেজার ভাঙচুর করেন, এমনকি আগুনও ধরিয়ে দেন।'
এসআই শাহজালালের অনুমতি ছাড়া কোনো ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা যায় না বলেও জানান তিনি।
কচাকাটা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক শাহজালাল উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ নাকচ করে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রামবাসীর অভিযোগে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ করতে সেখানে যাই। সেখানে ড্রেজার মেশিনে আগুন দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। ড্রেজার মেশিনের মালিকদের সঙ্গে আমার কোনো চুক্তি নেই। আমি কারও কাছ থেকে কোনো আর্থিক সুবিধাও গ্রহণ করিনি।'

তিনি বলেন, 'ড্রেজার মেশিনের মালিকরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে অভিযোগ করছেন।'
কচাকাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম এ বিষয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমি জাতীয় সংসদ সদস্যের আগমনে তার প্রোটোকল ডিউটিতে ব্যস্ত ছিলাম। তাই বিষয়টি সঠিকভাবে জানি না।'

বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।