ঠাকুরগাঁওয়ে তোফাজ্জল হত্যা মামলায় ৫ জনের যাবজ্জীবন
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১২ বছর আগে সংঘটিত একটি হত্যা মামলায় ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের একটি আদালত। তাছাড়া সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের এক হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে অনাদায়ে অতিরিক্ত একমাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়ারও রায় দিয়েছে আদালত।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ গাজী দেলোয়ার হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুল হামিদ।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার বলঞ্চা গ্রামের নজরুল ইসলাম (৬২) ও তার ছেলে ইউনুছ আলী (৩৭), একই গ্রামের সেকেন্দার আলী (৪২), চন্দনচহট গ্রামের আবুল জলিল (৩৯), বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর বাঙ্গাটলি গ্রামের কফিল উদ্দিন (৫২)।
রায় ঘোষণার সময় ৩ জন আদালতে উপস্থিত থাকলেও নজরুল ইসলাম ও সেকেন্দার আলী পলাতক রয়েছেন।
এই মামলায় অপর ৩ আসামী এনএনবি ইটভাটার মালিক তোফাজ্জল হোসেন, খলিলুর রহমান ও ম্যানেজার মজিবর রহমানের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত না হওয়ায় তাদেরকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
মামলাসূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ১৪ মার্চ ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হারামডাঙ্গী সাবাজপুর গ্রামের একটি ভুট্টা খেত থেকে মস্তকবিহীন অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নিহতের স্বজনরা উদ্ধারকৃত মরদেহ বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ভানোর গোকরাপাড়া গ্রামের মোজাম্মেল হকের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বালিয়াডাঙ্গী থানা পুলিশের তৎকালীন উপ-পরিদর্শক মো. আতিকুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা করেন।
ঘটনার সূত্র ধরে ২দিন পর ইউনুস আলী, আব্দুল জলিল ও কফিল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃতদের স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি অনুযায়ী, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার নেংটিহারা গ্রামের এনএনবি ইটভাটার চুল্লি থেকে নিহত ব্যক্তির ভস্মীভূত মস্তকের অংশ ও হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করা হয়।
দুইধাপে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিবর্তনের পর জেলা সিআইডির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামলাটির তদন্ত শেষে ৮জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৩ সালের ১৮ মে আদালতে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করেন।
১৮ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও মামলার নথি পরীক্ষা নিরীক্ষা করে আদালতের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন এ রায় প্রদান করেন ।