ডাকাত সন্দেহে ৩ জনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ মামলা, স্বজনদের সড়ক অবরোধ
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় ডাকাত সন্দেহে ৩ যুবককে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় পৃথক ২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার বিকেলে ফকির ফ্যাশন ফ্যাক্টরির বাস ড্রাইভার মো. হানিফা এবং আড়াইহাজার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুর রহমান ঢালী আড়াইহাজার থানায় মামলা ২টি করেন।
আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিচুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'একটি ডাকাতি ও একটি হত্যা মামলা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশের করা হত্যা মামলায় ২০০ থেকে ২৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। আর শ্রমিকের ডাকাতি মামলায় নিহত ৩ জনের নাম উল্লেখসহ ১৪ থেকে ১৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।'
ডাকাতি মামলায় বাদী মো. হানিফা উল্লেখ করেন, 'প্রতিদিনের মতো ১৩ জানুয়ারি সকালে ফকির ফ্যাশন প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানের বাস ইলমদী পাকা রাস্তার মোড়ে পৌঁছামাত্র অজ্ঞাত পরিচয়ের ১৪ থেকে ১৫ জন ডাকাত ২টি লেগুনায় করে এসে বাসের গতিরোধ করে। লেগুনা থেকে ৫ থেকে ৭ জন ডাকাত দেশীয় অস্ত্র হাতে বাসে উঠে আমাকেসহ বাসে থাকা ৯ জন শ্রমিককে প্রাণনাশের ভয় দেখায়। বাসের শ্রমিকদের কাছ থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে বাস থেকে নেমে যায় তারা। এ সময় ইলুমদী মোড়ে বাসের জন্য অপেক্ষমান শ্রমিকরা বাসের দিকে আসতে থাকে। তখন আমিসহ বাসের শ্রমিকরা ডাকাত বলে চিৎকার করলে ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় ৩ ডাকাতকে আটক করে স্থানীয়রা। আমরা বাসে শ্রমিকদের নিয়ে ফকির ফ্যাশনে চলে যাই। পরে জানতে পারি স্থানীয় জনতা আটক ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করেছে।'
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মো. হানিফা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'আমাদের বাসে ডাকাতি করছে। সেজন্য ডাকাতির মামলা করেছি।' পরে কথা বলবেন বলে ফোন রেখে দেন তিনি।
নিহতের স্বজনদের দাবি, ৩ জনের কেউ ডাকাত নয়। তারা লেগুনা মালিক ও চালক। তাদের মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
ডাকাত আখ্যা দিয়ে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ তুলে আজ সকাল ১১টায় সোনারগাঁও উপজেলার বস্তল এলাকায় এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতদের পরিবারে সদস্যসহ অর্ধশতাধিক এলাকাবাসী। প্রায় ১ ঘণ্টা রাস্তায় বিক্ষোভ করেন তারা।
পরে সোনারগাঁও থানাধীন তালতলা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক আবু সাইদ এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা সড়ক থেকে সরে যান।
এ সময় নিহত জহিরুল ইসলামের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, 'মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক।'
নিহত মফিজুলের আত্মীয় আসাদ মিয়া বলেন, 'এ অঞ্চলে তাদের কেনো খারাপ রেকর্ড নেই। এলাকার সবাই তাদের পরিশ্রম কর্মজীবী হিসেবেই চিনে জানে। সঠিক তদন্ত করলে সব কিছু বের হয়ে আসবে। প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার করে বিচার করতে হবে।'
গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় উপজেলার ইলমদী বেনজীর বাগ এলাকায় রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন- সোনারগাঁ উপজেলার বস্তল বৌ-বাজার গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে মফিজুল ইসলাম (২৬), একই গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম জেসনু (২৭) ও আড়াইহাজার উপজেলার মাধবদী গ্রামের মোসলেম হোসেনের ছেলে নবী হোসেন (৩০)। তাদের মধ্যে মফিজুল ও নবী লেগুনা চালক এবং জেসনু লেগুনার মালিক।