ধামরাইয়ে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি

আকলাকুর রহমান আকাশ, সাভার

ঢাকার ধামরাইয়ের চৌটাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডের অর্থ আত্মসাৎ ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের করা লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।

এ বিষয়ে ধামরাই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তাজমুন্নাহার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভিযোগ তদন্তে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার ফাতেমা বেগমকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী ৭ কর্ম দিবসের মধ্যে কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।'

'তদন্তে অনিয়ম-দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে', বলেন তিনি।

এর আগে, বাবু যুধিষ্ঠির বিশ্বাস নামে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও বিদ্যালয়ের উন্নয়ন ফান্ডের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানা দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন অংকের টাকা আদায় করে আসছেন। এ ছাড়াও, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা তুলতেও প্রধান শিক্ষিকাকে কমিশন দিতে হয়।

মঙ্গলবার সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তদন্ত কমিটির বিদ্যালয় পরিদর্শনের খবর পেয়ে সকাল থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ভিড় করেছেন। সেসময় অভিভাবকদের একত্রিত হয়ে প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানার অপসারণ চেয়ে স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

সাদিয়া রহমান নামে অপর এক অভিভাবক ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হওয়া স্বত্বেও প্রধান শিক্ষিকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্নপত্র ছাপানো, পরীক্ষার খাতা খরচ, বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাসহ নানা বাহানায় বিভিন্ন অংকের অর্থ আদায় করে আসছেন। এ ছাড়াও, উপবৃত্তির টাকা তুলতে গেলেও শিক্ষার্থী প্রতি ১০০ থেকে ২০০ টাকা হারে তাকে কমিশন দিতে হয়।'

তিনি আরও বলেন, 'এভাবে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতে পারে না। আমাদের সক্ষমতা থাকলে বা খরচ দিয়ে পড়াতে পারলে তো বাচ্চাদের বেসরকারি স্কুলেই ভর্তি করতাম।'

বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি শীতল সরকার ডেইলি স্টারকে বলেন, 'প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানা বরাবরই নিজের খেয়াল-খুশি মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করেন। আমি ২ বছর কমিটিতে থাকাকালে একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হয়, তবে তিনি কর্ণপাত করেননি।'

তিনি আরও বলেন, 'এর আগেও শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছিল। সেসময় শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা ফেরত দিয়ে সেবারের মত পার পেয়েছিলেন তিনি।'

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা নিগার সুলতানা। তার দাবি, তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার।

বিষয়টি নিয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

বিদ্যালয়ে পরিদর্শনকালে ক্ষোভ প্রকাশ করে তদন্ত কমিটির সদস্য ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইদুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিয়মানুযায়ী তদন্ত কমিটিকে সহযোগিতা করতে বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তারা এদিন কেউ বিদ্যালয়ে উপস্থিত হননি। বার বার তাদের উপস্থিত থাকতে বলা হলেও তারা কমিটির কথায় কোনো কর্ণপাত করেননি।'

এ বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সরলা সরকার জানান, ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে তিনি এদিন বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে পারেননি। বিষয়টি নিয়ে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

তবে প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'এখানে লুকোচুরির কিছু নেই। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে সবই সত্য। আমরা বার বার তাকে সতর্ক করলেও তিনি আমাদের কথা শোনেননি। এমনকি কয়েক দফায় তিনি আমাকে বিদ্যালয়ের ফান্ডের টাকা উত্তোলনের জন্য ফাকা চেকে সাক্ষর করতেও বাধ্য করেছেন। কিন্তু পরবর্তীতে সেই টাকা তিনি কীভাবে, কোন খাতে ব্যয় করেছেন, তা জানানোর প্রয়োজন মনে করেননি।'

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মো. হাই জকি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'অভিযোগটি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রমাণ পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।'