নওগাঁয় সেই স্কুলশিক্ষকের করা মামলায় বিএনপি ও যুবদল নেতা গ্রেপ্তার
নওগাঁয় সাম্প্রদায়িক বিতর্কের শিকার স্কুলশিক্ষক আমোদিনী পালের দায়ের করা মামলায় মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের ২ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার কিউ এম সাঈদ (৫০) মহাদেবপুর উপজেলা বিএনপির ক্ষুদ্রঋণ ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক এবং সামসুজ্জামান মিলন (৩৮) মহাদেবপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক।
আজ শুক্রবার তাদের গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজম উদ্দিন মাহমুদ দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ জানান, দাউল বারবাকপুর উচ্চবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগে আজ শুক্রবার তিনি এ মামলা করেছেন।
তিনি আরও জানান, মামলায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এর আগে, গত ৭ এপ্রিল স্কুলের সমাবেশ চলাকালে ছাত্র-ছাত্রীদের মারধরের ঘটনার পর সে রাতে শামীম আহমেদ জয় নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে হিজাব পরার জন্য ছাত্রীদের মারধরের জন্য আমোদিনী পালকে দায়ী করা হয়।
পোস্টটি তিনি সে রাতে মুছে দিলেও পরে তা ভাইরাল হয়ে যায়।
পরে ৯ এপ্রিল শতাধিক গ্রামবাসী স্কুল অবরোধ করে, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং আমোদিনীর অপসারণের দাবি করে।
পুলিশ সেদিন পরিস্থিতি সামাল দেয় এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণ আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করেন।
ঘটনা তদন্তে উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মালেককে প্রধান করে ৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন।
তদন্তে সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পালের বিরুদ্ধে তোলা সাম্প্রদায়িক বিতর্কের পেছনে স্কুল কর্তৃপক্ষের একটি অংশের দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার তথ্য বেরিয়ে আসে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আমোদিনী পাল বলেন, 'আমি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তাই এই মুহূর্তে কিছু বলতে পারব না।'
