নরসিংদীতে ডেকে নিয়ে আগুন, সেই গৃহবধূর মৃত্যু

নিজস্ব সংবাদদাতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

নরসিংদীর রায়পুরায় ডেকে নিয়ে পেট্রল ঢেলে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া গৃহবধূ পারভীন আক্তার (৩০) মারা গেছেন।
দীর্ঘ ২৭ ঘণ্টা চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ণ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মৃত্যু হয় পারভীনের।
আট মাস আগে বিয়ে বিচ্ছেদ হয় পারভীনের। গত শনিবার পারভীনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে তার প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির লোকজন আগুন দেয় বলে অভিযোগ করেছেন পারভীনের ভাই আকরাম হোসেন।
এই ঘটনায় পারভীনের প্রাক্তন স্বামী জাকির হোসেনের ভাইসহ চার জনকে আসামি করে রায়পুরা থানায় মামলা করেন তিনি।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ইতোমধ্যে মামলার আসামি আলী হোসেন ও শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়ার কথা বলে শনিবার দুপুরে প্রাক্তন শ্বশুরবাড়ির লোকজন পারভীনকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে টিকা দেওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজি অটোরিকশায় করে রওয়ানা হওয়ার কিছুক্ষণ পরই চোখ-মুখ বেঁধে ফেলা হয়। এরপর লোচনপুর এলাকায় একটি নির্জন বাঁশঝাড়ে নিয়ে পেট্রল ঢেলে তার শরীরে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। স্থানীয়রা পারভীনকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রোববার ভোররাতে তাকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
মামলার বাদী আকরাম জানান, বছর খানেক আগে তার বোনের দেবর আলী হোসেন তার ভাগ্নির পায়ে দা দিয়ে কোপ দিয়েছিলেন। নাতনীর পায়ে কোপ দেওয়ার ঘটনায় আকরামের বাবা দানা মিয়া থানায় একটি মামলাও করেছিলেন। এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মামলা তুলে নিতে পারভীনকে নানাভাবে হুমকি দিতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই পারভীন রাজি না হওয়ায় তার উপর নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। তাদের অত্যাচার সইতে না পেরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন পারভীন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা বলেন, ভিকটিমের পরিবার আগেই অগ্নিদগ্ধ হওয়ার মামলা করেছিলেন। আগের মামলাটি এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে। এর মধ্যেই দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করার পর রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।