নিত্যপণ্য মজুদকারীদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য সব আইনে ব্যবস্থা নিন: সরকারকে হাইকোর্ট
ভোজ্যতেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য মজুদকারীদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য সব আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
একটি রিট আবেদনের শুনানিতে আজ মঙ্গলবার সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে রেশন কার্ডের মাধ্যমে মুক্ত বাজার বিক্রয় নীতি অবলম্বন করে তেল, পেঁয়াজ, আটা, চাল, গম, চিনি ও ডালসহ সব নিত্যপণ্য সাধারণ জনগণের মাঝে বিতরণের নির্দেশ দেন আদালত।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা আজ দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, কর্তৃপক্ষকে আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এই নির্দেশনা বাস্তবায়ন করে সে অনুযায়ী আদালতের কাছে প্রতিবেদন পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়াও কর্তৃপক্ষকে হাইকোর্ট একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়ে ৪ সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা করতে বলেছেন, কেন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ ও নিরীক্ষণের ব্যর্থতাকে অবৈধ ঘোষণা করা হবে না।
আদালত এই রায়ে বাজার অস্থিতিশীল করার জন্য দায়ী ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট বন্ধ করতে প্রতিযোগিতা আইন, ২০১২ এর অধীনে একটি প্রবিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তার কারণ দর্শাতে বলেছেন সরকারকে।
বাজারে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা এক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
দ্য ডেইলি স্টারে ৩ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে গত ৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনির হোসেন, সৈয়দ মহিদুল কবির এবং মোহাম্মদ উল্লাহ সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা হিসেবে আবেদনটি জমা দেন।
দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যবসায়ীরা অল্প সময়ে বেশি মুনাফা লাভের জন্য সিল করা ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল থেকে তেল বের করে তা খুচরা আকারে বিক্রি করছেন। অনেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংরক্ষণ করছেন। ফলে সার্বিকভাবে খুচরা বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে। এই সুযোগে অসাধু ব্যবসায়ীরা দেশে তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন।