নিম্ন আয়ের মানুষের শতকোটি টাকা নিয়ে পলাতক জসিম গ্রেপ্তার

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে আমানত সংগ্রহ করে সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেওয়া কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেডের চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

আজ বৃহস্পতিবার ভোরে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর এলাকার এক দরবার শরীফ থেকে জসিম উদ্দিন ও প্রতিষ্ঠানটির সম্পাদক লাকী আক্তারকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

র‌্যাব- ৪ এর অধিনায় মোজাম্মেল হক দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পরে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাসের অফিসে অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, মাদক, জাল টাকা উদ্ধার ও ২টি দামি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, জসিম উদ্দিন একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৩ সালে তিনি কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন পায় ২০০৬ সালে। ২০১৩ সালে এটি পূনর্নিবন্ধিত হয়। তাদের গ্রাহক সংখ্যা আনুমানিক ২৫-৩০ হাজার। বিভিন্ন স্কিমে তাদের কাছে প্রায় শতকোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।

র‍্যাব আরও জানায়, 'প্রতারক চক্রটি মানুষজনকে প্রলুব্ধ করতে নিজেদের কিছু লোককে সদস্য সাজিয়ে দেখাতো। ভুয়া এই সদস্যরা বলতেন যে তারা এখানে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা পেয়েছেন। প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছে টাকা নিয়ে কোনো মুনাফা দিতো না। এমনকি জমা করা টাকাও ফেরত দিতে টালবাহানা করত। গ্রাহকরা টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেওয়া হতো। এছাড়া সমিতির নারী সদস্যদের প্রতি অশালীন মন্তব্য করা এবং পুরুষ সদস্যদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‍্যাব।'

গত ২৬ অক্টোবর র‌্যাবের এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রতারক চক্রটি মূলত নিম্ন আয়ের বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন বস্তি এলাকার গার্মেন্টসকর্মী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, সবজি ব্যবসায়ী, ফল ব্যবসায়ী, গৃহকর্মী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের টার্গেট করতেন। স্বল্প সময়ে মাসিক মেয়াদ শেষে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন।

একই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক শাকিল আহম্মেদসহ ১০ জনকে গত ২৫ অক্টোবর গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪।