নিম্ন আয়ের মানুষের শতকোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস

স্টার অনলাইন রিপোর্ট

উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষদের কাছে আমানত সংগ্রহ করে সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছে কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড।

প্রতারণার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির প্রকল্প পরিচালক শাকিল আহম্মেদসহ ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব-৪। তবে মূল আসামি জসিম উদ্দিন পলাতক আছেন। তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জ।

আজ মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো র‍্যাবের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত অন্যরা হলেন, মো. মাগুরার চাঁন মিয়া (৩৮), বাগেরহাটের এ কে আজাদ (৩৫), বরগুনার মো. রেজাউল (২২), গাইবান্ধার মো. তাজুল ইসলাম (৩১), চাঁদপুরের মো. মাসুম বিল্লা (২৯) ও মাগুরার মো. টিটু মিয়া (২৮)।

তারা মূলত নিম্ন আয়ের বিশেষ করে রাজধানীর মিরপুরের বিভিন্ন বস্তি এলাকার গার্মেন্টসকর্মী, রিকশাচালক, ভ্যানচালক, সবজি ব্যবসায়ী, ফল ব্যবসায়ী, গৃহকর্মী ও নিম্ন আয়ের মানুষদের টার্গেট করতেন। স্বল্প সময়ে মাসিক মেয়াদ শেষে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করতেন।

র‍্যাব জানায়, 'প্রতারক চক্রটি মানুষজনকে প্রলুব্ধ করতে নিজেদের কিছু লোককে সদস্য সাজিয়ে দেখাতো। ভুয়া এই সদস্যরা বলতেন যে তারা এখানে বিনিয়োগ করে অধিক মুনাফা পেয়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের কাছে টাকা নিয়ে কোনো মুনাফা দিতো না। এমনকি জমা করা টাকাও ফেরত দিতে টালবাহানা করত। গ্রাহকরা টাকা চাইতে গেলে হুমকি দেওয়া হতো। এছাড়া সমিতির নারী সদস্যদের প্রতি অশালীন মন্তব্য করা এবং পুরুষ সদস্যদের মারধর করার অভিযোগ পাওয়া যায়। নির্যাতনের জন্য ব্যবহার করা কিছু সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব কর্ণফুলী মাল্টিপারপাসের অফিস থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত ১৭টি মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব বহি, ২৬টি চেক বহি, ২টি ডিপোজিট বহি, ৩টি সিল, ১২০টি ডিপিএস বহি, ১টি রেজিস্টার বহি, ১টি নোটবুক, ১টি স্যালারি শিট, ৩০টি জীবন-বৃত্তান্ত, ৫টি ক্যালেন্ডার, ৮ পাতা ডিপিএস এর মাসিক হিসাব বিবরণী, ৩টি পাসপোর্ট, ১টি ডিভিআর মেশিন, ভুক্তভোগীদের অভিযোগ কপি ২৮ পাতা, ১ টি ব্যানার ও নগদ ৪ লাখ ২২ হাজার টাকা জব্দ করেছে।

র‍্যাব জানায়, জসিম উদ্দিন একটি ইনস্যুরেন্স কোম্পানিতে রিপ্রেজেন্টিটিভ হিসেবে কাজ করতেন। ২০০৩ সালে তিনি কর্ণফুলী মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠানটি সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন পায় ২০০৬ সালে। ২০১৩ সালে এটি পূনর্নিবন্ধিত হয়। তাদের গ্রাহক সংখ্যা আনুমানিক ২৫-৩০ হাজার। বিভিন্ন স্কিমে তাদের কাছে প্রায় শতকোটি টাকা আদায় করা হয়েছে।