পটুয়াখালীতে খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরির অভিযোগ ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে

নিজস্ব সংবাদদাতা, পটুয়াখালী

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের একটি সরকারি খাল দখলের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের বিরুদ্ধে। তারা মাটি কেটে খালে বাঁধ ও পুকুর তৈরি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে খালে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন দুই পাড়ের অন্তত ৫ হাজার কৃষক।

কৃষকরা বলছেন, খাল দখল হয়ে যাওয়ায় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতায় বীজতলাসহ আবাদে যেমন ক্ষতি হচ্ছে, তেমনি শুকনো মৌসুমেও এই খালের পানি সেচ কাজে ব্যবহার করতে না পেরে চাষাবাদে ক্ষতি হচ্ছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানায়, এটি সরকারি 'ডাঙ্গার খাল' নামে পরিচিত। এটি পশ্চিমে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বেড়িবাঁধ এবং পূর্বে মোল্লা বাজারে গিয়ে শেষ হয়েছে। প্রায় ৩ কিলোমিটার খালটির মোল্লা বাজার অংশে জলকপাট রয়েছে এবং সেখান থেকেই পানি ওঠানামা করছিল।

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য মজিবুর রহমান মিন্টু ও সংরক্ষিত-১ আসনের মহিলা সদস্য রিনা বেগমসহ এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী সরকারি ডাঙ্গার খালটিতে অন্তত ১৫ টি বাঁধ দিয়ে পুকুর বানিয়ে ফেলছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়রা জানায়,  এক সময় খালটি প্রবাহমান ছিল। এটির গভীরতাও ছিল। কিন্তু পশ্চিম দিকে পাউবোর বাঁধের কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং  দিন দিন খালটি ভরাটের উপক্রম হয়। কৃষি কাজে ব্যবহারের জন্য খালে মিষ্টি পানি সংরক্ষণ করে তা সেচ কাজে ব্যবহারের জন্য স্থানীয় কৃষকরা খালটি খননসহ পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা হাসান মৃধা জানান, অনেক আগ থেকেই খালে বাঁধ দেওয়া শুরু হয়। বাঁধের কারণে পানি চলাচল বন্ধ থাকায় খালটি এখন মৃত প্রায়। এতে এলাকার কৃষকদের ফসলী জমি চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনচ্ছিুক অরেক কৃষক জানান,  এতদিন ইউপি সদস্যদের মদদে প্রভাবশালীরা খালে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করতো। তাদের পাশাপাশি এখন ইউপি সদস্যরাও দখলে নেমেছেন। ইউপি সদস্য মজিবুর রহমান মিন্টু ও মহিলা সদস্য রিনা বেগম খালটিতে একাধিক বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করছেন। 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মহিলা ইউপি সদস্য রিনা বেগম বলেন,  'এক সময় খালে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক থাকলেও ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর পানি আসে না। খালের এক মুখ বন্ধ। এই খালটি এমনিতেই পুকুর হয়ে গেছে। আমি খালে একটি বাধ দিয়েছি তবে তা বাঁধ কেটে দিবো। খালটিতে এখনও অন্তত ১৪-১৫ টি বাঁধ রয়েছে। অনেকে বাড়ির সামনে খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর করে এবং পরে তাতে বালু দিয়ে ভরে ফেলেছে।' 

ইউপিসদস্য মজিবুর রহমান মিন্টু নিজে খালে বাঁধ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ' খালটি অনেক স্থানে বাঁধ দিয়ে পুকুর করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন খালটির বাঁধগুলো কেটে খাল খনন করে গভীরতা ফিরিয়ে আনলে কৃষক উপকৃত হবে।' 

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাশফাকুর রহমান বলেন, 'সরকারি খালে বাঁধ দিয়ে পুকুর তৈরি করার কোনো সুযোগই নেই। আর এই কাজে ইউপি সদস্যরা জড়িত হতে পারে না। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছি।'