পাবনায় নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আ. নেতার মৃত্যু, গ্রেপ্তার আরও ১
পাবনার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের নাজিরপুরে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আওয়ামী লীগ নেতা নিহতের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি তারিকুল ইসলাম নিলুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১২।
আজ শুক্রবার ভোরে ফতেমোহাম্মাদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে, এই মামলায় আরও ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছিল র্যাব ও পুলিশ।
এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার ৩ জন হলেন- হেমায়েতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল আলম নিলু ও তার স্ত্রী মালেকা বেগম, নাজিরপুর এলাকার মো. ফারুক হোসেন ও তার বোন আমেনা বেগম।
র্যাব-১২ পাবনা ক্যাম্পের কমান্ডার কিশোর রায় দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, 'গোপন সংবাদেরভিত্তিতে ঈশ্বরদীর ফতেমোহাম্মদপুর এলাকা থেকে এই মামলার প্রধান আসামি তারিকুল আলম নিলুকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব সদস্যরা। এরপর তার দেওয়া তথ্যেরভিত্তিতে, চরপ্রতাপপুর এলাকা থেকে একটি বিদেশি রিভালবর, ২টি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে র্যাব।
র্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নির্বাচনের পরে আ. লীগ মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মধু (নির্বাচনে পরাজিত) তার কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বৈঠক করছিল। এ সময় পরাজিত অপর প্রার্থী নিলু ও তার সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন আ. লীগের প্রচার সম্পাদক শামিম হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়।
২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হেমায়েতপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল ইসলাম মধু পরাজিত হন। এ পরাজয়ের জন্য স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান তারিকুল ইসলামকে দায়ী করে মধুর সমর্থকরা। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'হামলায় নিহত শামিমের পিতা নুর আলী বাদী হয়ে বুধবার রাতে তারিকুল ইসলাম নিলুসহ তার পরিবারের ১৬ জনের নাম ও অজ্ঞাত ৮-১০ জন আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করে।'
ওসি জানান, ঘটনার পর থেকে আসামিরা এলাকা ছেড়ে পালান। পুলিশ তারিকুল ইসলাম নিলুর স্ত্রী মালেকা বেগমকে ঘটনার পর গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।