পাবনায় পৌর কর্মী হত্যা: সাবেক মেয়র, যুবলীগ নেতাসহ ৪ জন জেলহাজতে
পাবনার সুজানগর পৌরসভার কর্মচারী আল আমিন হত্যার ঘটনায় পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা তোফাজ্জল হোসেন তোফা, তার ভাই যুবলীগ নেতা জুয়েলসহ ৩৩ জনকে আসামি করে মামলা করেছে নিহতের পরিবার।
এ ঘটনায় সাবেক মেয়র তোফা, তার ভাই পৌর যুবলীগ সভাপতি মো. জুয়েল, তাদের সমর্থক গৌর ও লিটনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করে আজ বুধবার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে, গত সোমবার আদালত থেকে ফেরার পথে সুজানগরে ২ ভাইয়ের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় সুজানগর পৌরসভার টিকাকর্মী আল আমিন (২৭) নিহত হন এবং তার ভাই রজব আলিকে গুরুত্বর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জালাল উদ্দিন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'নিহতের ভাই লাল্টু বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে আতাইকুলা থানায় সাবেক মেয়র তোফাজ্জল হোসেন তোফা, তার ভাই জুয়েলসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়।'
এ ঘটনার পর পুলিশ অস্ত্রসহ সাবেক মেয়র তোফা, তার ভাই জুয়েলসহ ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে। পরে আজ আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়।
সুজানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান ডেইলি স্টারকে বলেন, 'গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে একটি লাইসেন্স করা বন্দুক ও অবৈধভাবে রাখা আরও একটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে সুজানগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।'
এদিকে, সহকর্মী হত্যার প্রতিবাদে সুজানগর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আজ সকালে পৌরসভা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে সুজানগর শহর প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা একটি মানববন্ধনও করেন।
আল আমিনকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় হত্যাকারী সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পৌরসভার কর্মীদের এই আন্দোলন চলবে বলেও জানান তারা।